অপদার্থ ( ছোট গল্প ) / তারিফ আলম

3rd September 2023 11:00 am তারিফ আলম
অপদার্থ ( ছোট গল্প ) / তারিফ আলম


গল্প -- অপদার্থ 

লেখা - তারিফ আলম 

 

একটু আগেই বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে । তাই আজ বেরাতে একটু দেরি হয়ে গেল সমরেস এর । বাস টা ধরা যাবে না হয়তো । ব্যাগ টা কাঁধে নিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটা দিল । টোটো ধরলে খুব সহজে পৌঁছে যেত এই ২ কিমি পথ । কিন্তু ১০ টাকা টা বাঁচাতে পারলে খুব ভালো হয় । কারন মাসের শেষ প্রায় । টিউশন এর টাকা যা পেয়েছিল তা পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করতে করতে সব শেষ প্রায় ।

পাড়ার চা দোকানের মোড় টার কাছে যেতেই কানে এল ‘ অপদার্থ ‘ কথাটা । চায়ের দোকানে পাড়ার গুনি জ্ঞানি ব্যাক্তি গন রোজ বসে চা খেতে খেতে সমালোচনার পালা চালিয়ে যান । কথাটা যে তাকেই উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে তা অবশ্য বুঝতে বাকি নেই সমরেস এর । দীর্ঘ দিন ধরে পড়াশুনা শেষ করে একটা চাকরির জন্য অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে । কিন্তু চাকরিটা হচ্ছে না । বহু দিন থেকে বেকার । টিউশন করে নিজের হাত খরচ টা কোন রকমে চালিয়ে নেয় ।

‘অপদার্থ “ কথাটা পাড়ার লোক শুধু নয় , নিজের পরিবারের লোকদের কাছ থেকেও শুনে শুনে এখন গা সওয়া হয়ে গিয়েছে । প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো । মনে হতো কবে চাকরিটা পাবো আর এই “ অপদার্থ “ বিশ্রী শব্দটা শোনা থেকে মুক্তি পাবে ।

যাই হোক এখন বাসটা ধরতে পারলেই হল । বেলদা কলেজে আজ তার ইন্টারভিউ আছে সহ গ্রন্থাগারিক পদ এর জন্য । ভাগ্য ভালো বাস টা পাওয়া গেল । কলেজে পোঁছে গিয়ে দেখল অনেকে উপস্থিত আছে । শেষে আসার কারনে সব শেষে ডাক পড়ল ইন্টারভিউ এর জন্য । ইন্টারভিউ খুব ভালো হল । বাইরে এসে সমরেস দেখল প্রায় সকলে চলে গিয়েছে । সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয় নি তার । ব্যাগ এ কাগজে মোড়া শুকনো মুড়ি টা আসার সময় বোন ব্যাগে ভরে দিয়ে বলেছিল “ দাদা দোকান থেকে চপ বা চানাচুর –কিছু কিনে খেয়ে নিস “। মা মরার পর বোনটাই একটু খবর রাখে তার । পকেটে কিছু কেনার পয়সা নেই , তাই শুকনো মুড়ি গুলোই চিবাতে থাকলো ।

পিছন থেকে একটা বয়স্ক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে তার খাওয়া লক্ষ্য করছিল । কোথায় যেন লোকটাকে দেখেছে । হ্যাঁ ইনি তো ইন্টারভিউ নেওয়ার সময় দূরে সেই রুমের মধ্যে বসেছিলেন । ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন সমরেস এর দিকে । পাশে এসে নিজের পরিচয় দিলেন , তিনি এই কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক । তার ছেলেও আজ ইন্টারভিউ দিয়েছে । কিন্তু দ্বিতীয় হয়েছে । প্রথম হয়েছে সমরেস ।

কথাটা শুনে মন আনন্দে ভরে গেল । এই ভদ্রলোক এর কথা যদি ঠিক হয় তাহলে তার চাকরিটা হয়ে যাবে । আর তাকে কারো কাছে “অপদার্থ “ শব্দ টা শুনতে হবে না ।

কিন্তু পরক্ষনেই ভদ্রলোকের কথা শুনে খুব রাগ হল । তিনি বললেন যে , “ তুমি পড়াশুনায় খুব ভালো , তাই অন্য অনেক ভালো চাকরি পেয়ে যাবে । আমার ছেলেটা পড়াশুনাতে খুব খারাপ । ইচ্ছে ছিল এই কলেজে যাতে সে চাকরি টা পেয়ে যায় । তুমি যদি চাকরি টা না করো , তাহলে আমার ছেলে চাকরিটা পেয়ে যেত । এর জন্য তুমি যত টাকা চাও দেব ।“

সমরেস খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়ে কিছু না বলে বাড়ীর পথে হাঁটা দিল । তাড়াতাড়ি বাড়ী পৌঁছে সে বোন , বাবা, দাদা , বউদি সবাইকে জানাবে যে সে “ অপদার্থ “ নয় ।

বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বাইরে থেকে শুনতে পেলে বাবা – দাদা এর মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হচ্ছে । সমরেস এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাস করলো , কি হয়েছে ?

বাবা রেগে গিয়ে বললেন , তোকে জানতে হবে না কিছু , তোর দ্বারা তো আর কিছু হবে না “ অপদার্থ “।

সমরেস ব্যাগ টা রেখে বোন এর রুমে গিয়ে দেখল বোন অঝরে কেঁদে চলেছে । কারন জানতে চাইলে , বউদি এসে মুখ ঝামটা দিয়ে বলল , তুমি কারন জেনে কি করবে ? তোমার তো কিছুই করার সামর্থ্য নেই । তোমার বোন হারান বাবুর ছেলে রবির সাথে প্রেম করে । বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে যেতে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করেছে হারান বাবু । এখন এত টাকা আসবে কোথা থেকে । তা না হলে তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে তার ছেলেকে অন্য মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন ।

কথা গুলো শুনে বোন এর কাছে গিয়ে মাথায় হাত দিয়ে সমরেস বলে ,কাঁদিস নে । সব ঠিক হয়ে যাবে ।

সমরেস কয়েকবার দেখছে রবির সাথে দাঁড়িয়ে বাড়ীর পিছন দিকে বোন রুমা কে কথা বলতে । অনেক দিন থেকেই ওরা একে অপরকে ভালোবাসে ।

বোন রুমা সমরেস কে এসে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো । রবির সাথে না বিয়ে হলে সে মরে যাবে বলল ।

সমরেস কি একটা দ্রুত চিন্তা করে নিয়ে বোন এর কাছে ১০ টাকা চাইল । বোন ১০ টাকা বের করে দিল । সমরেস দ্রুত বাড়ী থেকে বেরিয়ে হাঁটা দিল । আবার বাসে করে বেলদা কলেজে এসে পৌঁছে খোঁজ করতে লাগলো সেই ভদ্রলোকের । ঠিকানা নিয়ে তাঁর বাড়ীতে এসে দেখা করলো ।

*************************************

............ গতকাল রাতেই বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে । বোন , বাবা ,দাদা ,বউদি সব খুশি । হটাত করে হারান বাবু বিনা যৌতূক এ রুমা কে তাঁর ছেলের বউ করে নিয়ে গেলেন ----- সকলে খুব অবাক ।

যাই হোক , আজ বোন নাই , তাই ব্যাগে শুকনো মুড়ি টা কেউ ভরে দেয় নি । খালি ব্যাগ নিয়ে হাঁটা শুরু করলো সমরেস । কাল টিউশন পড়াতে যেতে পারে নি । আজ তাড়াতাড়ি না গেলে অপমানকর দুটো কথা শুনতে হবে । চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতেই কানে “ অপদার্থ “ শব্দ টা ভেসে এল । এখন আর শব্দ টা শুনে কষ্ট হচ্ছে না । কলেজে চাকরিটা পেয়ে গেলে সে “পদার্থ “ হয়ে যেতে পারতো , কিন্তু তা হলে হয়তো বোনের বিয়ে টা হতো না । মনের দুঃখে যদি সে আত্মহত্যা করে নেয় । নিজের প্রিয় বোনকে সে হারাতে চায় না । তাই কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপকের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিজের চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে সেই টাকা চুপি চুপি হারান বাবুর হাতে তুলে দিয়ে অনুরধ করেছিল ... এই টাকার কথা কাউকে বলবেন না । আপনার ছেলের সাথে আমার বোনের বিয়ে টা যেন হয় ।

শুনে হারান বাবু খুব আনন্দিত হয়ে গিয়েছিলেন । তিনি তাঁর কথা রেখেছেন । কেউ জানতে পারলো না এই অপদার্থের কথা ।

সময় , পরিস্থিতি অনেক সময় মানুষের জীবনের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় । হওয়া কাজ অনেক সময় ভণ্ডুল হয়ে যায় । কেউ কেউ একে ভাগ্যের দোষ বলে থাকে । তাই বলে কি সে “ অপদার্থ “ ?





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?