অন্তরের ভালোবাসা ( প্রেমের গল্প ) / তারিফ আলম

3rd September 2023 10:49 am তারিফ আলম
অন্তরের ভালোবাসা ( প্রেমের গল্প ) / তারিফ আলম


*অন্তরের ভালোবাসা*

লেখা – তারিফ আলম

 

জয় এর বদলী হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর এ , বেলদা থানা । থানার বড়বাবু হিসাবে যোগদান করেছ । আজই পৌঁছল সে । তবে এ জায়গাটা তার কছে নতুন নয় । আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে বাবা – মা এর সঙ্গে এসেছিল সে । এক বছরেরও বেশি সময় তারা এখানে ছিল । ছোট শহর , বিকেলে একাই বেরিয়ে পড়েছে বেড়াতে । খুব ভালো ভাবেই মনে আছে জয়ের এখানকার পথ – ঘাট । তবে তাদের চলে যাওয়ার সাত বছরের মধ্যেই কত কিনা বদলে গিয়েছে । কোথায় সেই ফাঁকা মাঠ – যেখানে ফুটবল খেলা হত । এখন তো সেখানে বড় বড় সব পাকা বাড়ী , চারিদিকে লোকে লোকারণ্য ।

পথ চলতে চলতে জয় স্কুল ছুটির ঘণ্টা শুনে থমকে দাঁড়াল । এই তো সেই আসন্দা শিক্ষা নিকেতন , জয়ের কাছে খুব চেনা । এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল স্কুলটার দিকে । মাধ্যমিক পর্যন্ত সে এখানেই পড়াশুনা করেছে । কত বন্ধু, আর সব থেকে প্রিয় সেই নীলিমা – যে তার জীবন থেকে চিরদিনের মত হারিয়ে গিয়েছে । এক সময় ছিল যখন নীলিমা দের বাড়ীর দিকে তাকিয়ে থেকে কত সময় কাটিয়ে দিত শুধুমাত্র তাকে এক পলক দেখার জন্য ।

মেন রাস্তা ছেড়ে একটা গলির মধ্যে ঢুকে পড়লো জয় । এ গলি , ও গলি ঘুরে পৌঁছে গেল নদীর ধারে । বসন্ত – বিকেলের রাঙ্গা রোদ ঝিলমিল খেলছে নদীর জলে । দিনান্তের শীতল বাতাস কি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারবে জয়ের উত্তপ্ত হৃদয়ে ? কচি ঘাসে ঢাকা নদীর পাড়ে বসলো সে । একা । দৃষ্টি ছড়িয়ে দিল দূরে --- দেখানে শিতে জমে যাওয়া প্রসারিত নদীবক্ষে পালতোলা ডিঙ্গি গুলো ভাসছে জোয়ারের অপেক্ষায় । এই পরিবেশ , এই নদী – সবুজ ঘাসে ঢাকা ভাঙ্গা নদীতীর , ওপারের সবুজ গাছ – গাছালী – সবই এককালের খুবই চেনা জয়ের । তবে দীর্ঘ সাত বছর পর সে এসেছে এখানে । আজ মনের উত্তেজনা প্রশমনের জন্য নিজের অজান্তেই কেমন করে যেন এসে পড়েছে এখানে । সাতটি বছর আগে হারিয়ে যাওয়া রঙিন দিনগুলোর মধুময় স্মৃতিমালা তার দুর্বলতার সুযোগে মনের মধ্যে তোলপাড় শুরু করেছে । সে এতক্ষনে বুঝতে পারলো দীর্ঘ সাত বছর পরও হৃদয়ের পাতা থেকে মুছে যায় নি অতীতের একটি সোনালী মুহূর্তও । কত দিন – কতবার যে সে এখানে এসেছে , প্রিয় সঙ্গিনীর সঙ্গে কথার পর কথার মালা গেঁথে অতিক্রম করেছে কত সুখময় সময় – তার হিসেব নেই ।

জয়ের মনে পড়ে গেল সে দিন টার কথা , যে দিন স্কুল থেকে বাড়ী ফেরার সময় নীলিমার কাছে গিয়ে তার হাতে একটা সুন্দর গোলাপ ফুল দিয়ে চুপিচুপি বলেছিল , ‘ কাল বিকেলে নদীর ধারে বুড়ো বট গাছটার তলায় এসো , কথা আছে ।

আবেগ উত্তেজনায় সে দিন সারা রাত ঘুমাতে পারেনি জয় । শুধু একটাই চিন্তা – নীলিমা আসবে তো । পরদিন দুপুর থেকে গিয়ে বসেছিল বট গাছটার নীচে । নীলিমা আসবে কি আসবে না – এই দ্বন্দ্বেই হৃদয়ের রক্ত নাচছিল তার । এক দৃষ্টিতে চেয়ে বসেছিল নীলিমার আসার পথের দিকে ।

অবশেষে এক সময় অপেক্ষার পালা শেষ হল । নীলিমা এলো ধীরে ধীরে । অসাধারন আবেগ – অদ্ভুত এক অনুভুতিতে তারও মুখটা রক্তিম হয়ে উঠেছিল । মুখে কোন কথা সরে নি । গলা শুকিয়ে কাঠ ।

নীলিমাই প্রথম মুখ খুলেছিল – ‘ কি বলবে বল , ডেকেছ কেন ?’

তুমি কি কিছুই বুঝতে পারো নি নীলিমা ? জয় খুব শান্ত স্বরে জিজ্ঞাসা করল ।

না ।

এখুনি শুনতে চাও ?

হ্যাঁ । আমার কাজ আছে , তাছাড়া মাকে না জানিয়ে এসেছি । আমার ভীষণ ভয় করছে ।

হোক । এসো এইখানটায় বসি । দেখো , নদীর দিক থেকে কেমন মিষ্টি হাওয়া বয়ে আসছে ।

নীলিমা আর বেশি আপত্তি করেনি । ওরা দুজন বসেছিল নদীর পাড়ে । পাশাপাশি । সমবয়সী দুটি প্রান প্রথম কাছাকাছি এসেছিল সেদিন । অপ্রাসঙ্গিক অর্থহীন সব কথার মায়াজাল বুনে কাটিয়ে দিয়েছিল সোনাঝরা বিকেলটি ।

তারপর এমনি করে স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে কেটে গিয়েছিল একটা বছর । জয় কে আর খুলে বলতে হয় নি তার মনের কথা । নিজেদের অজান্তেই কখন যে দুটি হৃদয় কাছ থেকে আরও কাছে আসতে আসতে মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল – তা বুঝতে পারে নি দুজনের কেউই । নদীর পাড় ছাড়িয়ে তাদের চলাফেরা প্রসারিত করেছিল পার্কে , সিনেমায় , রেস্টুরেন্ট , বাসস্ট্যান্ড বা স্টেশনে । স্কুল তো আছেই ।

----------------------*************-------------

একটা সময় ছিল যখন জয়ের সারা মন জুড়ে নীলিমাই বিরজ করতো । হয়ত আজও। সে নীলিমা কে কোনদিন ভুলতে পারে নি ---- পারবেও না ।

আর এক দিনের কথা মনে পড়ে গেল জয় এর । সে দিন নীলিমার কাছে চীর বিদায় নিতে গিয়েছিল সে । সরকারি চাকুরে বাবার বদলীর সঙ্গে সঙ্গে তাকেও চলে যেতে হবে নতুন যায়গায় । নীলিমা আগেই জানতে পেরে গিয়েছিল । শেষ দিন নদীর পাড়ে সন্ধ্যা করে এসেছিল সে । তার চোখ দুটো যেন জমা কাল মেঘের মত , বহু বর্ষণ বুঝি হয়ে গিয়েছিল ইতিমধ্যে । জয় নিজেও কোন কথা বলতে পারে নি সেদিন । এক অসহ্য বেদনায় কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল । খুব ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে দুটো কথা মাত্র বের হয়েছিল --- আমরা কাল ......

আর কিছু বলার পূর্বেই মুখে হাত রেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিল নীলিমা । সে দিন তাকে সন্তনা দেওয়ার সাহসও পায় নি জয় । নদীর জলের কলতান আর পাখীদের আপন নীড়ে ফেয়ার ব্যস্ততা গোধূলির ম্লান আলোয় এক রহস্যময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল । আর এই রুপ পরিবেশে দুটি নিস্পাপ প্রান প্রেমাগ্নিতে জ্বলেছিল সে দিন ভীষণ ভাবে ।

অতীতের স্মৃতির সমদ্রে তলিয়ে যেতে যেতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উঠে দাঁড়াল জয় । অনেকবার চিঠি দিয়েছে ,কিন্তু কোনটারই উত্তর পায় নি । নীলিমা কোথায় হারিয়ে গিয়েছে । তারাও ভাড়া বাড়ীতে থাকতো , ছোট দু ভাই ও বাবা মা । এখন তারা আর কেউ নেই । অন্য কোথাও চলে গিয়েছে । শুধু স্মৃতি গুলো পড়ে আছে ধুলোয় ।

জয় একটা সিগারেট ধরিয়ে টান মারতে মারতে গলি দিয়ে আগিয়ে যাচ্ছিলো । এমন সময় একটা লোক অন্ধকারে দৌড়াতে দৌড়াতে এসে তাকে ধাক্কা মারল সজোরে । কোন রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে জয় জাপটে ধরল সেই লোকটাকে ।

এই পালাচ্ছিস কোথায় , থাম ।

লোকটা জোরে হ্যাঁচকা মেরে নিজেকে ছাড়াতে চাইল । জয় আরও শক্ত করে চেপে ধরল ।

আমাকে ছেড়ে দে , না হলে মেরে ফেলব – এই বলে লোকটা একটা ছুরি দিয়ে আঘাত করল জয় এর হাতে ।

হাতে আঘাত পেয়ে লোকটাকে ছেড়ে দিতেই সে ছুটে পালাতে লাগলো । জয় দ্রুত পকেট থেকে রিভালবার টা বের করে লোকটার পা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ল । গুলির আঘাতে লোকটা চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেল ।

***********************

সকালে জয় স্নান সেরে হাল্কা টিফিন সেরে থানায় এল । গতকাল যাকে ধরেছিল তার নাম অমিত দাস । পাশের প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতো । বেতন নিয়ে গণ্ডগোল দেখা দেওয়ায় মালিককে ছুরি মেরে হত্যা করে পালাচ্ছিল । এমন সময় জয় সম্মুখে এসে পড়ে । তার ছোড়া গুলি অমিত বেশি লাগে নি । পা এর সাইডে একটু আঘাত লেগেছিল । কিন্তু তবুও ভয়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল । কিন্তু অমিতের দেওয়া ছুরির আঘাতে হাত টা একটু জখম হয়ে গিয়েছিল জয়ের । অবশ্য ব্যান্ডেজ করার পর ব্যাথাটা কমে গিয়েছে ।

নিজের রুমে গিয়ে পুরনো ফাইল গুলো ওলট – পালট করে দেখছিল । এমন সময় কনস্টেবল রাম লালা এসে বলল , স্যার গতকাল যে খুনিটাকে ধরেছিলেন তার স্ত্রী সারা রাত থানার বাইরে বসে আছে । তাকে যেতে বললেও যাচ্ছে না । সে একবার আপনার সাথে দেখা করতে চায় ।

ঠিক আছে তাকে পাঠিয়ে দাও ।

জয় চেয়ারে হেলান দিয়ে পিছনে ফিরে বসে সিগারেট ধরাল ।

স্যার , আমার স্বামী বেকসুর , সে খুন করে নি , করতে পারে না । তাকে আপনি দয়া করে ছেড়ে দিন – এই বলে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটি প্রবেশ করল রুমে ।

হটাত জয়ের মনের মধ্যে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়ে গেল । কত চেনা গলার আওয়াজ , কত চেনা কান্নার সুর । চকিতে ঘুরে পড়লো সে । এ যে নীলিমা । তার মনের অন্তরালে যে আজও রয়েছে গোপনে , যার ভালোবাসার ছোঁয়া জয়ের শরীরের প্রত্যেকটা কোষ অনুভব করছে এখনও ।

‘নীলিমা ‘ – মুখ থেকে অজান্তেই বেরিয়ে পড়লো নামটা । সে চোখ তুলে চাইল । ক্ষনিকের জন্য দু জনের চোখে আনন্দের অশ্রু । বিস্ময় ভরা চোখ নিয়ে চেয়ে রইল দু জন দু জনের দিকে । দীর্ঘ সাত বছর পর এই অবস্থায় দখা হবে কেউই ভাবতে পারেনি । আচমকা আনন্দ , তারপরই বেদনা । না পাওয়ার যন্ত্রণা । কতক্ষন যে দু জন দু জনের দিকে চেয়ে ছিল আর তাদের অশ্রু আনন্দের কি বেদনার – তা বোঝা মুশকিল ।

নীলিমা হটাত শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ এ চেপে ধরে ছুটে চলে গেল থানা থেকে বেরিয়ে । জয় পিছন থেকে ডাকল , নীলিমা – যেও না । দয়া করে একটু দাঁড়াও । আমার কথা শুনে যাও প্লীজ ।

নীলিমা জয় এর অনুরোধ শুনল না । চলে যেতে থাকলো । জয় এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল তার চলে যাওয়ার পথের দিকে ।

===============**********============

অমিত কে জেরা করে জানা যায় যে , ভুল বশত তার দ্বারা ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে যায় । অনেক ক্ষতি হওয়াতে মালিক শিবনাথ দত্ত তাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করে দেয় এবং অমিতের পাওনা টাকাও তাকে দিতে অস্বীকার করে । অমিত শিবনাথ বাবুর বাড়ী গিয়ে টাকা চাইতে দু জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং হাতাহাতিও শুরু হয়ে যায় । এই সময় অমিত ছুরি দিয়ে আঘাত করে শিবনাথ বাবুকে । শিবনাথ বাবু মাটিতে পড়ে যান । এমন সময় শিবনাথ বাবুর ভাই প্রাননাথ এসে পড়লে অমিত ছুটে পালায় ।

অমিতের কাছ থেকে জয় তার বাড়ীর ঠিকানা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে । মেন রাস্তা ছেড়ে সবুজ পল্লীর তিন নম্বর গলির শেষের বাড়ী । জয়ের অবশ্য খুঁজতে অসুবিধা হল না । বাড়িটা ছোট টালির । সামনে কাঁটার বেড়া দিয়ে ঘেরা । সেখানে কিন্তু গোলাপ ফুলের গাছ লাগানো । আর সেই গাছ গুলতে চার – পাঁচ বছরের সুন্দর একটি বাচ্চা মেয়ে জল দিচ্ছিল । বাড়ীর সম্মুখে পুলিশের জিপ দাঁড়াতে দেখে সে ভয় পেয়ে গেল হয়ত । ছুটে গিয়ে প্রবেশ করলো ঘরের মধ্যে । জিপ থেকে নেমে জয় বাড়ীর দরজার সম্মুখে যেতেই এক বৃদ্ধা ঘরের মধ্যে রাখা একটি চেয়ারে বসতে বললেন । নীলিমা মনে হয় অন্য রুমে কাঁদছিল । বৃদ্ধা খবর দিতে আঁচল দিয়ে চোখ মুছে কাঠের দরজাটা ঠেলে মাথা নিচু করে এসে জয়ের পাশে এক চেয়ারে বসলো ।

‘ তুমি এখানে এলে কেন ? খুব কষ্টে কথা গুলো বলে নীলিমা ।

নীলিমা তুমি এ কথা বলছ ? আমি কত খুঁজেছি , কিন্তু তোমাকে পাই নি । তোমারা ভাড়া বাড়ী ছেড়ে চলে গিয়েছিলে । আমি এই অবস্থায় তোমাকে দেখবো তা কোন দিনও ভাবতে পারিনি ।

‘ সে কথা থাক । নীলিমা বাধা দেয় । অতীত এর গহ্বর নতুন করে খনন আর করতে চায় না সে , যেখানে শুধু নুড়ি - পাথর ছাড়া আর তো কিছুই নেই ।

‘ মা , দিদা চা পাঠালেন । একটা প্লেটে এক কাপ চা আর দুটো বিস্কুট নিয়ে সেই পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়েটা এসে প্লেট টা টেবিলে রাখল । নীলিমা তাকে কোলে টেনে নিয়ে বলল , এ আমার মেয়ে মিনু ।

খুব সুন্দর মেয়ে তোমার , কি মিষ্টি ।

এবার মিনু একটু সাহস পেয়ে জয় কে জিজ্ঞাসা করলো , এই পুলিশ কাকু , আমার বাবা কবে আসবে ? আমার জন্মদিনে বাবা একটা পুতুল কিনে দিবে বিলেছিল । কিন্তু আজও এলো না ।

জয় মিনুকে কোলে তুলে নিল । আদর করতে করতে বলল , চলে আসবে মামনি , খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে তোমার বাবা এবং তোমার জন্য ভালো একটা পুতুলও নিয়ে আসবে ।

জয় তোমার বাবা মা কেমন আছেন ? নীলিমা এখন অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই কথা গুলো বলল ।

‘বাবা নেই , মা আর ভাই দেশের বাড়ীতে থাকেন ।

আর নীলিমা তোমার বাবা মা?

নীলিমা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল , তারা থেকেও নেই ।

কি ভেবে নিয়ে জয় উঠে দাঁড়াল । নীলিমার একেবারে কানের কাছে গিয়ে বলল , কথা আছে । বিকেলে এসো । আমি অপেক্ষা করবো নদীর ধারে । এই বলে জয় দ্রুত বেরিয়ে গেল বাড়ী থেকে ।

নীলিমা মনে মনে বলতে লাগলো – আর কোন কথা নয় জয় , সব কিছুই শেষ হয়ে গিয়েছে , যে রুপ দাবানলের আগুনে জ্বলে যায় সমস্ত বন , বনের গাছ পালা ,পশু পাখী , তাদের সুখের সংসার । জীবন যে বড় কষ্টের জয় । কি করে বুঝাই তোমায় ।

**********************

বহু দিন পর আবার জয় ও নীলিমা কচি ঘাসে ঢাকা নদীর পাড়ে বসলো । অবশ্য সময়ের ব্যবধানের সঙ্গে সঙ্গে মনের দূরত্ব টাও এখন অনেক ।

‘নীলিমা , আমি তোমাকে এখনো ভালোবাসি ‘

জয়ের কথা শুনেই নীলিমা দ্রুত উঠে দাঁড়াল , চলে যাওয়ার উপক্রম ।

জয় চট করে নীলিমার হাত ধরে জোর করে বসিয়ে দিল । ‘ দাঁড়াও , তুমি যেও না , প্লীজ ‘।

আর ঐ রকম কথা বললে আমি কিন্তু চলে যাবো ‘ – নীলিমা রাগ দেখিয়ে কথা গুলো বলল ।

জয় চুপ করে গেল । ভেবেই পেল না এইখানে এই একি কথা বারবার শোনার জন্য যে ব্যাকুল ছিল , সে আজ আর সেই নয় । কতই না শপথ করেছিল তারা দু জনে হাতে হাত রেখে । আর আজ ......

অমিত খুন করেছে , তার ফাঁসি হবে নিশ্চিত । নীলিমা চুপ , তার চোখ দুটো যেন পাথর হয়ে গিয়েছে , চাইলেও আর কান্না আসবে না বোধহয় ।

অমিতের মৃত্যুর পর আমি তোমাকে বিয়ে ...

কথা শেষ হল না , নীলিমা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াল ।

কখনও না । হিন্দু নারী আমি , একবার জন্মগ্রহন করেছি , বিয়ে হয়েছে একবার , একবারই মরবো । অমিতের মৃত্যু হলে আমি মরে যাবো কিন্তু তোমাকে আর কিছুতেই বিয়ে করতে পারব না । আমাকে ভুলে যাও জয় ।

এবার আর চোখের জল বাঁধা মানল না নীলিমার , চোখ মুছতে মুছতে দ্রুত চলে গেল । পিছন থেকে ডাকার সাহস আর জয় এর হল না ।

জয় কিছুতেই নীলিমা কে মরতে দিতে পারে না । নীলিমাই যে তার জীবন , নীলিমার মৃত্যু হলে সে কি আর জীবিত থাকতে পারবে ? কখনই না । নীলিমা আজ তার কাছে স্বপ্ন হয়ে রয়ে গিয়েছে । স্বপ্ন কখনও সত্যি হয় না । নীলিমা কে নিজের করে পাওয়া আর সম্ভব হল না এ জীবনে । হাজার চিন্তা মাথায় ঘুরতে লাগলো । নীলিমা এখন আর পূর্বের মত নেই , এখন সে বিবাহিত । অন্যের অর্ধাঙ্গিনী । তার দুটি চোখে জয়ের প্রতি ভালোবাসার যে আগুন জ্বলত , আজ তার উত্তাপ নেই । নীলিমা তার চোখের জলধারা দিয়ে চিরদীনের জন্য নিভিয়ে দিয়েছে প্রেমাগ্নিকে ।

এদিকে কখন বৃষ্টি আরম্ভ হয়ে গিয়েছে খেয়াল নেই । সারা শরীর ভিজে গিয়েছে । কনকনে শীতল বাতাস বয়ে চলেছে অবিরাম । অন্য কোন দিন হলে ঠাণ্ডায় জমে যেত সে । কিন্তু আজ তার ভগ্ন হৃদয়ের উত্তাপ সমস্ত শরীরের শীতলতা দূর করে দিয়েছে । অতি ধীর পদক্ষেপে সে বাড়ীর দিকে রওনা হল ।

…………………………………….

সকালে ডঃ সরকার শিবনাথ চৌধুরীর পোস্টমাডাম এর রিপোর্ট নিয়ে এলেন । ডঃ সরকার জয়ের দিকে রিপোর্ট টা এগিয়ে দিয়ে বললেন , স্যার,শিবনাথ চৌধুরীকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে ।হত্যাকারী ছুরি দিয়ে দেহের দু স্থানে আঘাত করেছে । প্রথম কাঁধে , তারপর বুকে। তার বুকে আঘাতের পরই তাঁরা মৃত্যু হয় । তবে আর একটা বিষয় আছে ।

কি বিষয় ? আপনি সব খুলে বলুন , উত্তেজিত হয়ে পড়ে জয় ।

হত্যাকারী দু স্থানে আঘাতের জন্য দুটি আলাদা ছুরি ব্যবহার করেছিল । কারন , কাঁধে যে চোট টা মাত্র এক ইঞ্চি আর ছুরিটা সোজা । কিন্তু যে ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করা হয়েছে সেটা পাঁচ ইঞ্চি ঢুকেছে । সে ছুরিটা নীচের দিকে সরু আর উপরের দিকে মোটা । আয়তনও অনেক বেশী ।

সে কি , জয় দ্রুত ড্রয়ার খুলে অমিতের কাছ থেকে পাওয়া ছুরিটা দেখিয়ে বলল , ডঃ সরকার , এই ছুরিটা দেখুন তো ।

হ্যাঁ , এই ছুরিটা দিয়ে কাঁধে আঘাত করা হয়েছিল ।

জয় সঙ্গে সঙ্গে কনস্টেবল রামলালাকে ডেকে নির্দেশ দিল অমিতকে সেখানে নিয়ে আসার জন্য ।

অমিত কাঁদতে কাঁদতে রুমে প্রবেশ করলো । জয় অমিতের কাঁধে হাত রাখল । তারপর বলল , এখন কান্না বন্ধ করে আমার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দাও।

দ্বিতীয় ছুরি টা কোথায় ?

দ্বিতীয় ছুরি ......অমিত অবাক হয়ে চাইল ।

হ্যাঁ যেটা দিয়ে তুমি শিবনাথ বাবুর বুকে মেরেছিলে ।

আমার কাছে একটাই ছুরি ছিল , যেটা দিয়ে আমি তার কাঁধে আঘাত করেছিলাম । আমার কাছে আর অন্য কোন ছুরি ছিল না । তিনি আমার ছুরির আঘাতে আহত হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন । তখন তার ভাই প্রাণনাথ ছুটে এলে আমি পালিয়ে যাই ।

জয় উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল , শিবনাথ বাবুর সাথে তার ভাই এর কি রকম সম্পর্ক ছিল ?

ভালো নয় । প্রাননাথ খারাপ পথে চলে যাওয়ার জন্য তাদের বাবা সমস্ত সম্পত্তি বড় ছেলে শিবনাথ এর নামে করে দিয়ে মারা যান ।

কি একটা চিন্তা করে নিয়ে ঝট করে উঠে দাঁড়ালো জয় । জিপ নিয়ে ছুটল প্রাননাথ কে ধরতে । ধরা পড়ল সে । জিজ্ঞাসাবাদে সমস্ত দোষ স্বীকার করল প্রাননাথ । সেই সম্পত্তির লোভে আহত দাদাকে ছুরি দিয়ে মেরে ফেলেছিল । ছুরিটাও পাওয়া গেল । ফলে অমিত বেকসুর খালাস হয়ে গেল ।

…………………………………..

জয় স্পেশাল ট্রান্সপার অর্ডার করিয়ে নিয়েছে মেদিনীপুর এ । আজই চলে যাবে । নীলিমার বাড়ীতে আজ তার নেমন্ত্রন আছে ।

অনেক রকম রান্না নিজ হাতে করেছে নীলিমা । দুপুরে আহার শেষে অমিত ডেকে পরিচয় করিয়ে দিল নীলিমার সাথে । তারা যে পূর্ব পরিচিত তা জানা নেই অমিতের ।

নীলিমা হেসে বলল , রান্না কেমন হয়েছে ?

ভালো , খুব ভালো

শুনেছি আপনি আজই চলে যাচ্ছেন ?

হ্যাঁ , এখানে আর ভালো লাগছে না । কারো স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ।

অমিত হেসে বলল , কারো স্মৃতি মানে ? কোন প্রেম-এর চক্কর নয় তো সাহেব ?

হ্যাঁ , অনেকটা তাই । তবে আমার প্রেমিকা এখন নতুন সুখের ঘর বেঁধেছে । আর তার সুখের সংসারকে ভেঙ্গে দেওয়ার ইচ্ছা আমার নেই । এতে আমার ভালোবাসারই হার হবে ।

অমিত জয়ের দু হাত ধরে বলল , তুমি হারতেই পারো না । তোমার নাম তো জয় ।

একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে জয় অমিতকে বুকে টেনে নিয়ে নীলিমার দিকে চেয়ে বলল , এমন অনেক হার আছে যাতে জয়ের চেয়েও বেশি আনন্দ আছে । আর আজকে আমার আনন্দ টাও সেই রকম ।

কথায় –কথায় ট্রেনের সময় হয়ে গেল । তিনটার সময় ট্রেন । রাম লাল এসে জানিয়ে গেল । আবার বিদায় , এবার চিরদিনের জন্য । আশা – নিরাশা , পাওয়া – না পাওয়ার দ্বন্দ্ব মনের কোন অন্তরালে লুকিয়ে রাখেছে যে সে নিজেও জানে না ।

যেতে ইচ্ছা করছে না , তবুও অমিতের কাছে বিদায় নিয়ে জিপে এসে বসলো । পিছন পিছন নীলিমা এসে গাড়ির জানালা দিয়ে জয় কে ডেকে বলল , আমাদের যদি তোমার কখনো মনে পড়ে তাহলে আবার আসবে তো আমদের বাড়ী ?

জয় মুখ দিয়ে কোন কথা বলতে পারল না । শুধু ধীরে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল ।

রামলাল গাড়ি ছেড়ে দিল । জয় এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল নীলিমার দিকে । ধীরে ধীরে নীলিমা জয় এর চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল ।

..

..........।সমাপ্ত .........।।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?