অভিমান / তারিফ আলম ( গল্প )

3rd September 2023 10:36 am তারিফ আলম
অভিমান / তারিফ আলম ( গল্প )


গল্প - অভিমান 

লেখা - তারিফ আলম 

 

"আমার কথা তোমার তো মনেই থাকে না , সারা দিন শুধু কাজ, কাজ আর কাজ । ছুটি নিয়ে বাড়ী আসতে পারো না । এত যখন কাজ কে ভালোবাসো , আমাকে আর বিয়ে করেছিলে কেন ?” – সুমিতা কথা গুলো বলে রাগ দেখিয়ে দ্রুত ফোন টা কেটে দিল ।

রাকেশ ফোন এর ওপাশ থেকে নতুন বিয়ে করা বউ এর অভিমানি কথা গুলো শুনছিল মন দিয়ে । ওর কোন দোষ নেই । মাত্র ছয় মাস হল তাদের বিয়ে হয়েছে । পূজার ছুটিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে দিঘা যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল । কিন্তু পুলিশের চাকরি তো আর স্কুল মাস্টার এর চাকরির মত নয় যে পূজার ছুটি টা চুটিয়ে উপভোগ করার গ্যারান্টি থাকবে । সাব ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করার পর থেকেই পাহাড়ে পোস্টিং রাকেশের । কলকাতা থেকে অনেকটা পথ দার্জিলিং । তাই ইচ্ছা করলেই বাড়ীতে এক – দু দিনের জন্য গিয়ে সবার সাথে সময় কাটিয়ে আসা সম্ভব হয় না । তবে এ বার ছুটিতে বাড়ী গেলে সঙ্গে নিয়ে আসবে সুমিতাকে । দার্জিলিং এর অপরূপ পাহাড় , ঝর্না - এর সৌন্দর্য দেখাবে তাকে ।

রাকেশ আর একবার ফোন টা রিং দিল । কিন্তু সুমিতা রিসিভ করল না । যদি রিসিভ করত তাহলে রাকেশ প্রথমেই বলত যে , সে তাকে কত বেশি মিস করছে এখন । মোবাইলের স্কিনে সুনিতার হাসি মুখের ছবি টা লাগানো আছে । সুন্দর নিস্পাপ হাসি মুখ টা দেখলে সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয় । রাকেশ মোবাইল স্কিনে বউ এর ছবিতে চুমু খেয়ে বেরিয়ে পড়ে থানার উদ্দেশ্যে ।

সুমিতার মন টা খুব খারাপ , তার প্রিয় বান্ধবী রুমা আর তার বর অরিন্দম পূজার ছুটিতে পুরী ঘুরে এল । তাদের আর যাওয়া হল না । বর ছুটিই পেল না ।

তার টিউশন এর বাচ্ছারা চলে এসেছে । একা সময় কাটানোর জন্য আসে - পাশের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের টিউশন পড়ায় সুমিতা । এতে তার সময় কেটে যায় । মাস শেসে টিউশন এর ৭৫০ টাকা পেয়েছিল । সেই টাকা দিয়ে বর এর জন্য একটা শার্ট কিনে এনেছে । আজ রাতে ডিউটি থেকে ফিরে যখন ভিডিও কলিং করবে তখন দেখাবে বর কে তার পছন্দের নীল রঙ এর শার্ট টা । সেই সঙ্গে এটাও জানাবে যে সে মায়ের কাছ থেকে বিরিয়ানি রান্না করাটা শিখে নিয়েছে । রাকেশ বিরিয়ানি খেতে খুব পছন্দ করে । এবার বাড়ী ফিরলে সে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াবে ।

আজ মন ভাল নেই , তবুও বাচ্ছাদের টিউশন পড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সুমিতা ।

থানার বড় বাবু জরুরি তলব করলেন রাকেশ কে । সাত কিমি দূর উদয়পুর এর জঙ্গলে কয়েকজন আতঙ্কবাদী লুকিয়ে রয়েছে । আজ রাতেই রেট করতে হবে ।

একটু অন্ধকার নামতেই রাকেশ অন্য ১২ জন পুলিশ কর্মীকে নিয়ে রওনা হল উদয়পু এর জঙ্গলের দিকে । অন্ধকার ধীরে ধীরে ঘনীভূত হতে লাগলো । টর্চ এর আলোয় সতর্ক ভাবে পথ চলতে হচ্ছে । আতঙ্কবাদীদের গুলির সাথে সাথে জঙ্গলের বিষধর সাপেরও ভয় আছে । কিছুটা পথ চলার পর একটা পাথরের গুহার পাশে আলো দেখতে পেয়ে রাকেশ অন্য সবাইকে রাইফেল নিয়ে প্রস্তুত হতে বলে । রাকেশ অর্ডার দিলেই সকলে গুহা লক্ষ্য করে গুলি চালাবে সকলে । রাকেশ একটু এগিয়ে গিয়ে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখল যে , একটা চার বছরের মত বয়সী ছোট সুন্দর বাচ্চা ছেলে একা বসে খেলা করছে গুহার মুখের কাছে । ফায়ারিং করলে বাচ্চাটা মারা পড়বে । রাকেশ গুলি চালাতে বারন করে সকলকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে বলল গুহার দিকে । এমন সময় হটাত গুহার মধ্যে থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে আসতে লাগলো তাদের দিকে । কিছু বোঝার আগেই সকলের সামনে থাকা রাকেশের বুকে দুটো গুলি এসে লাগে । সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পাড়ে । ঝর ঝর করে রক্ত ঝরে পড়ছিল রাকেশের শরীর থেকে । অন্যরা তখন আতঙ্কবাদীদের সাথে পুরো দমে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ।

রাকেশ বুকে ক্রমাগত রক্তক্ষরন হচ্ছিল । হাত দিয়ে চেপে চেষ্টা করল রক্ত ক্ষরণ বন্ধ করার । কিন্তু পারলো না । নিঃশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে । যন্ত্রণা বেড়েই চলেছে । পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে রিং করল সুমিতাকে ।

সুমিতা টিউশন পড়াতে পড়াতে ফোন এর আওয়াজ শুনে গিয়ে টেবিলে রাখা ফোন টা দেখল । বর এর ফোন । এই সময় তো কোন দিন ফোন করে না । তাহলে আজ রাগ করে তখন ফোন কেটে দেওয়ার জন্য বুঝি এখন আমাকে মানাতে ফোন করছে ।

এই ভেবে সুনিতা ফোন টা রিসিভ করেই আবার নকল রাগ দেখিয়ে বলল , কেন ফোন করেছো ?

ওপাশ থেকে খুব ধীরে অথচ খুব শান্ত স্বরে রাকেশ বলল , সুমিতা তুমি রাগ করো না আর , আমার বুকে খুব কষ্ট হচ্ছে । উ উ উফ , একটু থেমে আবার বলল

‘তোমাকে আমি খুব ভালবাসি সুমি’ ।

সুমিতার রাকেশের কথায় রাগ কমলো না বরং বেড়ে গেল । কারন মাঝে মাঝে রাকেশ এই রকম করে সুনিতার অভিমান ভাঙ্গানোর জন্য বলত ।

সুমিতা রেগে বলল , আর নাটক করতে হবে না , তোমার বুকে কষ্ট হচ্ছে , আর আমার মনে যে এত কষ্ট দিলে । পুজায় আমার বান্ধবী রুমা তার বর এর সাথে পুরী ঘুরে এল । আর তুমি দিঘা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেও নিয়ে গেলে না । আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই না । ফোন রাখছি ।

রাকেশ খুব কষ্টে বলে উঠল , না , ফোন রেখো না প্লিজ । একটু কথা বলি , আর হয়ত কথা বলার সুযোগ পাবো না ।

সুমিতা ফোন কেটে দিল । আবার রিং হল । এ বার ফোন টা সুইচ অফ করে দিল । টিউশন এর ছাত্র ছাত্রীরা বসে আছে । এখন ফোন এ কথা বলার সময় নেই তার । রাতে যখন ফোন করবে তখন সারা রাত ধরে অনেক অনেক কথা বলবে বর এর সাথে । তখন আর রাগ দেখাবে না । শুধুই ভালোবাসার কথা । দিঘা ঘুরতে যাওয়া তো একটা বাহানা মাত্র , স্বামীকে পাশে পাওয়াটাই আসল তার কাছে ।

বুকের গুলিবিদ্ধ স্থান থেকে অনবরত রক্ত ক্ষরন হয়ে চলেছে । কষ্টটা খুব বেড়ে গিয়েছে । নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে ।

ফোন টা আবার লাগাতে চেষ্টা করল । ফোন সুইচ অফ বলল । হায় ভগবান ......

রাকেশ খুব কষ্টে কয়েকটা মেসেজ লেখার চেষ্টা করতে লাগলো । শক্তি ক্রমস্য শেষ হয়ে আসছে । নিশ্বাস আর নিতে পারছে না । হা করে মুখ দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো । খুব বাঁচতে ইচ্ছা করছে আজ তার । সুমিতা কে নিয়ে বেড়াতে যেতে ইচ্ছা করছে পাহাড় .........পাহাড় থেকে সমুদ্র – সব যায়গায় । অভিমানি মেয়েটাকে আর দুঃখ দিতে চায় না সে । চায় না তার মনে কষ্ট দিতে ।

উ উ উফ ...... কি কষ্ট ...

সুনিতা টিউশন ছুটি করে ফোন টা নিয়ে বরের ছবি গুলো দেখতে লাগলো । অনেক রাগ দেখিয়েছে বেচারার উপর । এবার ফোন করলে আর কিছু জিদ করবে না সে , ঝগড়াও করবে না । বর এর জন্য কেনা নীল রঙ এর জামা টা নিজের কাছে রাখল । বর এবার ফোন করলে তাকে ভিডিও কলিং করতে বলবে ।

রাত হয়ে গেল , বর এর ফোন এল না । টি ভি এর চ্যানেল গুলো পাল্টাতে লাগলো বসে বসে । হটাত এ বি পি আনন্দে একটা দুঃখের খবর দেখল সুমিতা । দার্জিলিং এর আতঙ্কবাদীদের গুলিতে এক পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে । তার নাম রাকেশ বলে জানা গিয়েছে ।

খবর টা শুনে এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করল সুমিতার মন- প্রান কে । এ হতেই পারে না । তখন পর্যন্ত শুধুই নাম জানা গিয়েছে , পদবি বা কোন ছবি নিউজে দেখাচ্ছেনা ।

একই নাম অনেকেরই হতে পারে । সুমিতা দ্রুত মোবাইল নিয়ে রাকেশ কে ফোন করতে লাগলো । ফোন সুইচ অফ । এমন সময় ছবি সহ নিউজ দিতে লাগলো । তার স্বামীরই ছবি । রাকেশ মণ্ডল ।

না .........না ......না ......এ হতে পারে না বলে চিৎকার করে পড়ে গেল মাটিতে । কষ্টে বুক ফেটে যেতে লাগলো তার । চোখ দিয়ে অশ্রুর ধারা গড়িয়ে পড়তে লাগলো । নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না সে । ফোন টা হাতে নিয়ে মেসেজ বস্ক এ দেখল রাকেশের পাঠান দুটো মেসেজ .........সুমিতা তুমি আর রাগ করো না , এ জীবনে তোমাকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া আর হল না , আমায় ক্ষমা করে দিও .........আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি ...

.................................সমাপ্ত .................





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?