অন্তরে / তারিফ আলম ( ছোট গল্প )

3rd September 2023 10:21 am তারিফ আলম
অন্তরে / তারিফ আলম ( ছোট গল্প )


গল্প -- অন্তরে 

লেখা -- তারিফ আলম 

 

ট্রেনটা কিছুক্ষনের জন্য দাঁড়িয়ে পড়েছে দুর্গাপুর স্টেশনে । হাওড়া থেকে আসানসোল যাচ্ছেন অমল মজুমদার তার প্রিয় বন্ধু আকাশ এর মেয়ের বিয়েতে যোগদান করার জন্য । সঙ্গে স্ত্রী রেবতি আর ছেলে দিপক আর মেয়ে মিমি । আর একজন সদস্য আছেন সঙ্গে , তিনি মিলন দা । অমল মজুমদারের স্ত্রী এর দাদা । মিলন দা এর বয়স ৫০ এর মত হবে । অবিবাহিত । প্রায় ১৫ বছর দেশের বাইরে ছিলেন । দেশে ফিরে এসে একমাত্র বোন এর বাড়ী ছাড়া আর কোন স্থান ছিল না যাওয়ার । তাই গত পরশু এসেছেন ।

এদিকে বন্ধুর বিয়েতে যোগদান করতে যেতে হবে অমলকে পুরো পরিবার নিয়ে । আগে থেকে সব ঠিক ছিল । কিন্তু মিলন দা এসেছেন এত দিন পর । তাঁকে একা রেখে কি ভাবে যাওয়া যায় । এ কথা টা বন্ধু আকাশ কে জানাতেই সে বলে দাদাকেও যেন সঙ্গে নিয়ে আসে ।

মিলন দা কেমন খুব চুপচাপ থাকেন । ২ দিন বাড়ীতে এসেছেন । কিন্তু কথা বলেছেন খুব কম । শুধু নিজের ডাইরিতে কি সব একা একা বসে লিখে যাচ্ছিলেন । বিয়ে বাড়ীতে যাওয়ার কথা শুনে কেমন গম্ভীর হয়েগিয়েছিলেন । কিন্তু আর কোন উপায় না দেখে তিনি রাজি হয়ে যান ।

ট্রেন এর বাঁশি দিল । এইবার ট্রেন ছাড়বে । সবাই ট্রেন এ উঠে পড়ছে । এমন সময় মিমি বলে উঠল – “ মামা যেখানে বসেছিলেন সেখানে নেই “। অমল আর ছেলে দিপক দু জনে মিলে খুঁজতে লাগল । হটাত রেবতি চিৎকার করে উঠল –“ ঐ তো দাদা দাঁড়িয়ে আছে । দাদা ট্রেন এ উঠে পড় । ট্রেন ছেড়ে দিল যে “।

অমল দেখল মিলন দা এর কানে কোন আওয়াজ যেন যাচ্ছে না । তিনি দাঁড়িয়ে নির্বিকার ভাবে কিছু দেখছেন । এদিকে ট্রেন এর গতি বেড়ে গিয়েছে । দেখতে দেখতে মিলন দা চোখের আড়ালে চলে গেল ।

রেবতি চিন্তা মগ্ন ভাবে বলল , “ দাদা বিয়ে বাড়ী যেতে চাইছিলেন না । আমাদের জোর করে নিয়ে আসা উচিত হয় নি । তাই হয়তো তিনি নেমে গেলেন ট্রেন থেকে “।

অমল বলল , “ চিন্তা করার দরকার নাই । দাদা কে ফোন করে দিচ্ছি । তিনি যেন আমাদের বাড়ীতে ফিরে যান । আমরা তো কালই বিয়ে বাড়ী শেষ করে ফিরে যাব “।

অমল ফোন টা নিয়ে দাদা কে ফোন লাগালেন । কিন্তু ফোন রিং হলেও তুলছেন না । তাই পরে করার সিধান্ত নিলেন ।

.................. মিলন বাবুর ফোন টা পকেটে রিং হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু তাঁর খেয়াল নেই । তিনি এক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলেন একটা গাছের দিকে । নীচেই যাত্রী্দের বসার জন্য আসন । খুব চেনা সব কিছু । ঐ তো পাশেই একটা ছেলে আর তার প্রেমিকা বসে । কি সব কথা বলছে । মিলন বাবু এগিয়ে গেলেন ধীর পায়ে । ছেলেটা একটা চকলেট এর প্যাকেট মেয়েটির হাতে দিল । মেয়েটি চকলেট টি কিছুটা ভেঙ্গে ছেলেটিকে খাইয়ে দিতে লাগল । চকলেট টা ডেয়ারি মিল্কের ই হবে মনে হয় । আর একটু পাশে গেলেন তাদের । হ্যাঁ ঠিক তাই ।

ছেলে – মেয়েটি দুজনে মিলন বাবু কে পাশে আসতে দেখে একটু সরে বসলো । ছেলেটি মিলন বাবু কে জিজ্ঞাসা করলো , “ কাকু , আপনি কি কিছু বলবেন ?”

মিলন বাবু মাথা নেড়ে “না” বলল । কিন্তু ছেলেটি আর মেয়েটি ওখানে থেকে উঠে চলে গেল ।

মিলন বাবু বসলেন এবার সেই চেয়ারে । অনেক দিন পর , প্রায় ১৭ বছর । কিন্তু এতদিন পরেও তো কিছুই বদলায় নি । এই চেয়ারটাতেই তো বসেছিল তারা প্রায় ১৭ বছর আগে । সে আর তার প্রেমিকা জিনিয়া । এই ভাবেই তো তারা দুজনে খেয়েছিল চকলেট । সময় চলে গিয়েছে বহু , কিন্তু ভালোবাসার স্মৃতি গুলোতে সবই রয়ে গিয়েছে মনের গোপন গহ্বরে । জিনিয়া মিলন কে ছেড়ে চলে গেলও তার স্মৃতি গুলো তো ছেড়ে কথাও যায় নি । সবই বিরাজ করছে মিলন এর পুরো মন জুড়ে ।

মিলন বাবু দ্রুত উঠে পড়ে অভার ব্রিজ এর কাছে গেলেন । সিঁড়ি দিয়ে এক পা এক পা করে এসে দাঁড়ালেন একটা কোনে । হ্যাঁ এখানেই তো জিনিয়া আর তিনি দাঁড়িয়ে অনেক সময় গল্প করেছিলেন । জিজ্ঞাসা করেছিলেন জিনিয়াকে যে , সে ভালোবাসে কতটা ? জিনিয়া হেসে বলেছিল “ অনেক ভালোবাসি । এতটা ভালোবাসি যে হিসাব করে বলা যাবে না “ ।

শুনে মিলন এর মন আনন্দে ভরে গিয়েছিল সে দিন । কিন্তু ভালোবাসা যে কতটা ছিল তা কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন , যখন জিনিয়া স্কুল টিচার এর চাকরিটা পেয়ে গিয়েছিল ।

মিলন বাবু এক পা এক পা করে হাটতে হাটতে স্টেশন এর বাইরে বেরিয়ে এলেন । বাস স্ট্যান্ড টা এখন অনেক পাল্টে গিয়েছে । ১৭ বছর আগে রাস্তা পেরানো মুসকিল ছিল । তখন জিনিয়ার হাত টা নিজের হাতে নিয়ে মিলন রাস্তা পার করে দিয়েছিল ।

আরে ঐ তো হোটেল তৃপ্তি । এই হোটেলে বসেই তো জিনিয়া আর তিনি দুপুরের আহার করেছিলেন । জিনিয়ার স্থুল হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল । তাই খুব অল্প ভাত খেয়েছিল । মিলন হেসে বলেছিল –“ জিনিয়া তুমি বেশি করে খাও , কোন ভয় করো না , তুমি মোটি হয়ে গেলও আমার অসুবিধা নেই , আমি তোমাকেই বিয়ে করবো ।“

জিনিয়া শুনে খুব হেসেছিল সে দিন ।

“বাবু ভাত খাবেন ? মাছ ভাত ৫০ টাকা । “ একটি ছেলে মিলন এর পাশে এসে বলল ।

মিলন প্রবেশ করলো সেই হোটেল এ । হোটেল মালিক টি এখন আর বেঁচে নেই । ১৭ বছর আগে খুব যত্ন করে খাবিয়েছিলেন তাদের ।

পুরনো সেই চেয়ারে গিয়ে বসলেন মিলন বাবু । বহু দিন পর এই হোটেলে আবার এসেছেন । একটি ছেলে ভাত তরকারি দিয়ে গেল । মিলন বাবু খাওয়া শুরু করলেন । মনে হল যেন পাশ থেকে কেউ বলে উঠল – ‘ মাছের কাটা দেখে খাবে ‘ । পাশে ফিরে দেখলেন কেউ নেই । জিনিয়া এই ভাবে সাবধান করে দিয়েছিল , জিনিয়ার গলার স্বর টা আজও কানের মধ্যে ভাসছে । চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল মিলন বাবুর । খেতে পারলেন না । উঠে পড়ে বিল মিটিয়ে দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে এলেন হোটেল থেকে । ধীর পায়ে গিয়ে যাত্রী প্রতিক্ষালয়ে গিয়ে বসলেন ।

ঐ তো সেই ছেলে মেয়েটি যারা একটু আগে স্টেশনে বসে প্রেম করছিল । এখন এখানে বসে প্রেম করছে । কি সব হাজারো রঙিন সব দুষ্টু মিষ্টি কথা বলে যাচ্ছে দুজনে আর খুব হাসাহাসি করছে । মিলন বাবু সেই প্রেমী যুগল এর মধ্যে নিজেকে আর জিনিয়া কে দেখতে পাচ্ছেন । এই ভাবে এখানেই তো বসে তারা দুজনে কত ভালোবাসার কথা বলেছিলেন । বিয়ে করে সংসার করার স্বপ্ন বুনেছিলেন মনের মধ্যে ।

কষ্টে গলা শুকিয়ে আসছে । মিলন বাবু সেখান থেকে উঠে সামনের একটা মিষ্টি দোকানে ঢুকলেন ঠাণ্ডা পানীয় খাবেন বলে । দোকানি sprite দিতে যাচ্ছিল । মিলন বাবু একটু ভেবে নিয়ে বললেন কোকোকলা দিতে । দোকানি তাই দিল । মিলন বাবু বোতলে চুমুক দিতে দেহে যেন প্রান ফিরে পেলেন । এইখানেই তো জিনিয়া আর তিনি দাঁড়িয়ে কোকোকলা পান করেছিলেন । জিনিয়া আজ পাশে নেই , কিন্তু তার অশরীরী উপস্থিতি যেন রয়ে গিয়েছে । সব স্থানে জিনিয়া , মিলন বাবুর মন- প্রান জুড়ে শুধুই জিনিয়ার স্মৃতি বিরাজ করছে ।

মিলন আবার এক পা এক পা করে স্টেশন এর ভেতরে এসে দাঁড়ালো চার নাম্বার প্লাটফর্ম এ । এখানেই তো ট্রেন টা এসে দাঁড়িয়েছিল । বর্ধমান লোকাল । জিনিয়া ট্রেন এ উঠে ছুটে এসেছিল জানালার ধারে । শেষ বারের মত বিদায় জানাতে । সে দিন খুব কষ্ট হচ্ছিল মিলন এর জিনিয়াকে যেতে দিতে । মনে হয় জিনিয়ারও হয় তো হয়েছিল । ভালোবাসার সময় কত কম , কিন্তু এই কম সময় গুলোই চিরদীন মনের মধ্যে বাসা বেঁধে কষ্ট দিতে থাকে ।

এত সুন্দর ভালোবাসার সম্পর্ক, সবকিছু একটা মাত্র চাকরি শেষ করে দিয়ে গিয়েছিল আজ থেকে ১৭ বছর আগে । মিলন আর জিনিয়া দু জনেই এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছিল । জিনিয়া পরীক্ষায় পাস করে স্কুল শিক্ষিকার চাকরি পেয়ে গিয়েছিল , কিন্তু মিলন পায় নি । তারপর থেকে জিনিয়া কেমন যেন পাল্টে গিয়েছিল । মিলন এর সাথে আর সম্পর্ক রাখতে চায় নি । ছোট খাটো কথা ধরে ঝগড়া করত । তার চাকরি পাওয়ার অহংকারে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিয়েছিল দুজনের ভালোবাসার পবিত্র সম্পর্ক কে । তারপর একদিন জিনিয়া চিরদীনের মত ভালোবাসার সম্পর্ক কে শেষ করে দিল । মিলন মনের দুঃখে এক বন্ধুর সাথে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিল কাজের সন্ধানে ।

বহু সময় পর আবার ফিরে এসেছে এখানে । সব কিছু কত চেনা । গাছ – পালা , অভার ব্রিজ , চেয়ার , হোটেল , মিষ্টি দোকান , যাত্রী প্রতিক্ষালয় – সব কিছু তো আছে । শুধু ভালোবাসার মানুষটিই নেই ।

হটাত একটা ট্রেন এল । বর্ধমান লোকাল । মিলন বাবুর চোখে জল এর কারনে সব কিছু ঝাপসা লাগছিল । ডান হাত দিয়ে চোখের অশ্রু মুছে নিয়ে ট্রেন এ উঠে পড়লেন । ট্রেন ছেড়ে দিল । কোথায় যাচ্ছেন , কেন যাচ্ছেন – কিছুই জানেন না । শুধুই চলে যেতে চান – এই চেনা – জানা স্মৃতি গুলোকে ফেলে বহু দূরে ......বহু দূর ।

.......................................সমাপ্ত ........................।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?