তারিফ আলম এর লেখা গল্প - বদনাম

3rd September 2023 10:15 am তারিফ আলম
তারিফ আলম এর লেখা গল্প - বদনাম


গল্প -" বদনাম "

লেখা - তারিফ আলম 

 

"স্কুলে সঠিক সময় আসবেন না , ক্লাস করবেন না , ছুটি হওয়ার আগেই চলে যাবেন - এমন করা যাবে না । সব কিছুর একটা নিয়ম আছে " -কথা গুলো খুব রেগে বললেন অজিত মাইতি । কথা গুলো সকল স্কুল স্টাফ এর সামনেই মদন দাসকে উদ্দেশ্য করে বললেন । অজিত বাবু এই মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে নতুন প্রাধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছেন মাত্র এক মাস হল । এরই মধ্যে স্কুলের শিক্ষকদের আচরন দেখে খুব বিরক্ত হয়েছেন তিনি । বিশেষ করে ইতিহাসের শিক্ষক মদন বাবুর কাজকর্ম, যা খুবই খারাপ ।

মদন বাবু দুপুর ১২ টার পরে স্কুলে আসেন আর ছুটি হওয়ার অনেক আগেই চলে যান । তিনি রাজনীতি করেন ও গ্রামের নেতা হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকেন । ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ হিসাবে সকলে তাকে চেনে বলে কেউ বিশেষ কিছু বলতে সাহস করে না । কিন্তু নতুন হেড মাস্টার মশাই সকলের সামনে তাকে এই ভাবে বকা দেবেন তা মদন বাবু ভাবেন নি ।

এবার মদন বাবু রেগে গিয়ে বললেন " আপনি এক মাস হল হেড মাস্টার হয়ে এই স্কুলে এসেছেন । কিন্তু আমাকে আপনি জানেন না । আমি এখানকার রুলিং পার্টির সভাপতি । আমার অনেক কাজ । তাই আমি স্কুলে ইচ্ছামত আসবো - যাব । কেউ আমাকে আগেও আটকায় নি আর এখনও আটকাতে পারবে না " ।

অজিত বাবু এবার মদন দাসের কথা শুনে খুব রেগে গিয়ে বললেন - " নেতাগিরি করবেন যদি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দেন । আমি ডি আই এর কাছে আপনার নামে নালিশ করবো যে আপনি ঠিকমত স্কুলে আসেন না আর ক্লাস করেন না "।

এবারে মদন বাবু রাগে গজগজ করতে করতে দ্রুত স্টাফ রুম ছেড়ে বেরিয়ে এলেন । তারপর নিজের বাইক টা নিয়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে গেলেন আর ভাবতে লাগলেন কি ভাবে এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া যায় ।

******

স্কুলের পাশেই অজিত বাবু ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন । মালতি নামের এক গ্রামের বয়স্ক মহিলাকে ঘরের কাজ ও রান্নার জন্য রেখেছেন তিনি । আজ রবিবার , স্কুল নেই , সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে , দশটা বেজে গেল । আনন্দবাজার পত্রিকা নিয়ে নিউজের হেডলাইন গুলোতে চোখ বুলাতে লাগলেন অজিত বাবু । এমন সময় বাইরের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে অজিত বাবু মালতি এসেছে ভেবে দরজা দ্রুত খুলতে গেলেন । দরজা খুলে দেখেন মালতি নয় , তাঁরই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রুপালী । তার পুরো শরীর বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছে ।

রুপালী দ্রুত অজিত বাবুকে প্রনাম করে বলতে লাগল - " আপনার বাড়িতে কাজ করে সেই মালতির আমি নাতনি । দিদিমার খুব জ্বর কাল রাত থেকে । তাই কাজ করতে আসতে পারেন নি । আমাকে পাঠিয়েছেন রান্না করে দেওয়ার জন্য । তাই আমি এসেছি স্যার" ।

অজিত বাবু একটু বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন , " তুমি আবার আসতে গেলে কেন ? আমি মুড়ি খেয়ে নিতাম । আমার কোন অসুবিধা হত না । তুমি বাড়ি ফিরে যাও "।

রুপালী দ্রুত ঘরে প্রবেশ করে বলল - "আপনি মুড়ি খেয়ে কেন থাকবেন স্যার , আমি এখনি ভাত - ডাল রান্না করে দিয়ে চলে যাব । আমার সালুয়ার কামিজ পুরো ভিজে গিয়েছে , একটা তোয়ালে পাওয়া যাবে স্যার "?

অজিত বাবু বাথরুমের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললেন - " বাথরুমের মধ্যে তোয়ালে আছে "।

রুপালী দ্রুত বাথরুমে গিয়ে প্রবেশ করল । অজিত বাবু আবার নিজের চেয়ারে এসে বসে আনন্দবাজার পত্রিকা পড়তে লাগলেন । কিছু দিন আগেই তিনি রাজ্য সরকার থেকে শিক্ষকতার জন্য "শিক্ষারত্ন" সম্মান পেয়েছেন । সমাজে এই ৫৫ বছর বয়সে অনেক সম্মানীয় হয়েছেন , সারা জীবন তিনি অবিবাহিত থেকে নিজের জীবনকে ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষাদানের ও সমাজ সেবার জন্য নিয়োজিত করেছেন । এই মোহনপুর একদম নতুন জায়গা । এখানে এক মাস হল প্রধান শিক্ষক হিসাবে এসেছেন । তবে এখানকার মানুষজনের মধ্যে শিক্ষার হার অনেক কম । তিনি চান এই এলাকার সকল বাচ্চা যাতে তার স্কুলে পড়াশুনার সুযোগ পায় সেই চেষ্টাই করে যাবেন ।

এমন সময় রুপালী এসে টেবিলে চায়ের কাপ আর বিস্কুট নিয়ে এসে রাখল । অজিত বাবু খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে রুপালীর দিকে তাকিয়ে অবাক হলেন । রুপালী একটা শুধু তোয়ালে গায়ে জড়িয়ে চা দিয়ে এসেছে ।

অজিত বাবু রেগে গিয়ে বকান দিয়ে বললেন _ " এই ভাবে কেন এসেছ এখানে "?

রুপালী ভিত স্বরে বলল - " আমার কাপড় সব ভিজে গিয়েছে , তাই তোয়ালে পরে কাজ করছি "।

অজিত বাবু নিজের একটা পাঞ্জাবী নিয়ে রুপালীকে দিয়ে বললেন সেটা পরে নিতে । এমন সময় দরজায় কারা যেন জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগলো । অজিত বাবু উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই আট দশ জন লোক ঢুকে পড়ল ঘরে । তাদের মধ্যে একজন বলে উঠল - " গ্রামের মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করা হচ্ছে "।

অজিত বাবু রেগে গিয়ে বললেন - " কে তোমারা ? বেরাও এখনি আমার বাড়ি থেকে , না হলে পুলিশ ডাকবো "।

এমন সময় রুপালী কাঁদতে লাগলো জোরে জোরে আর বলতে লাগল - " এই স্যার আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন । আমার গায়ে হাত দিয়েছেন জোর করে আর আমার শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেছেন "।

অজিত বাবু রুপালীর কথা শুনে একদম অবাক হয়ে গেলেন ।

" কি আজে বাজে বলছো রুপালী , কেন মিথ্যা কথা বলছ । আমি তো তোমার সঙ্গে কোন খারাপ ব্যবহার করি নি "।

কিন্তু রুপালী কাঁদতে লাগলো আর চিৎকার করে বলতে লাগলো যে অজিত বাবু তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন ।

লোকগুলো অজিত বাবুকে ধরে টানতে টানতে ঘরের বাইরে নিয়ে আসলো ।

চিৎকার চেঁচামেচি শুনে সেখানে গ্রামের অনেক লোক জমা হয়ে গেল । খুব দ্রুত গ্রামে খবর ছড়িয়ে গেল যে স্কুলের নতুন প্রধান শিক্ষক তাদের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছে ।

অজিত বাবু চিৎকার করে বলতে লাগলেন যে , তাকে ফাঁসানো হয়েছে , তিনি কোন অন্যায় করেন নি । কিন্তু কেউ তার কথা শুনতে চাইলো না । একজন চুন কালি নিয়ে অজিত বাবুর মুখে লাগিয়ে দিল । আর একজন জুতোর মালা পরিয়ে গালাগাল দিয়ে চরম অপমান করতে লাগল অজিত বাবুকে । অজিত বাবু এত অপমান কোনদিন পান নি । কস্টে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল ।

একটু পরেই মদন বাবু পুলিশ সঙ্গে নিয়ে এসে উপস্থিত হল । রুপালী পুলিশের সামনে গিয়ে বললো যে , অজিত স্যার তার শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেছে । পুলিশ মেয়েদের কথাকে গুরুত্ব দিল , অজিত বাবুর কোন কথা না শুনে তাঁকে হাতকড়ি পরিয়ে গাড়িতে তুললো । এমন সময় মদন অজিত বাবুর কানের পাশে এসে বললেন -" কেমন লাগলো আমাকে অপমানের বদলা , এই স্কুলে আর আসবেন না ফিরে , না হলে ......" এই কথা বলে বাঁকা হাসি হেসে চলে গেল মদন ।

অজিত বাবু এবার বুঝতে পারলেন এই ষড়যন্ত্রের পিছনে মদনের হাত এর কথা । এত বড় ক্ষতি করে দেবে এই শয়তানটা - তা আগে ভাবেন নি । পুলিশের গাড়ি ছেড়ে দিল । অজিত বাবু গাড়ির জানালা দিয়ে দেখতে লাগলেন তাঁর স্কুলকে ।

আইন এমন কেন , শুধু মেয়েদের কথা শুনে ছেলেদের দোষী বানিয়ে দেয় , সমাজও তাই করে । সম্মানহানি করে সম্মানীয় মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় ।

কবে এর পরিবর্তন হবে , মেয়ের মত ছেলেদের কথাও সমান গুরুত্ব পাবে -- সেটা হয়তো সময়ই বলবে ।

 

---- সমাপ্ত ---





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?