আশা / তারিফ আলম

10th July 2023 9:47 pm তারিফ আলম
আশা / তারিফ আলম


গল্প - আশা 

লেখা - তারিফ আলম 

 

ভোরে মোবাইল টা বেজে উঠতেই বরুন সামন্ত দ্রুত হাতে মোবাইল টা নিয়ে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে দীপালির গলা । খুব ধীরে জিজ্ঞাসা করলো , “ কেমন আছো “ ?

বরুন বলল , “ ভালো আছি । সাত টা থেকে ভোট শুরু হবে । আমাদের প্রিজাইডিঙ্গ অফিসার খুব ভালো । “

তুমি কেমন আছো ? ডক্টর কি বলল ?

দীপালি শান্ত স্বরে বলল , “ পেন হচ্ছে , ডক্টর বলেছেন যে কোন সময় ডেলিভারি করতে হতে পারে । তুমি এই সময় পাশে থাকলে খুব ভালো হত “।

দীপালির কথা গুলো শুনে বরুন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল , স্কুল টিচার সে । দীপালিকে কলেজ জীবনে থেকেই ভালোবাসতো । চাকরি পাওয়ার পর বিয়ে করে । বিয়ের চার বছর পর এই প্রথম বাচ্চা হবে বউ এর । দু জনেই খুব আনন্দে ছিল । অনেক স্বপ্ন দেখেছে নিজের সংসার নিয়ে । দীপালি এমনিতে খুব ভীতু । বাচ্চা হওয়ার সময় বরুন তার পাশে থেকে তাকে সাহস জোগাবে ভেবেছিল । কিন্তু ভোট এর দিন পড়ে গেল । তাকে ফাস্ট পোলিং অফিসার করে পাঠানো হয়েছে । আজ ভোট ।

দীপালি কে ফোনে বরুন একটু সাহস জোগাতে চেষ্টা করলো, “ ভগবান আছেন সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে “। তারপর ফোন টা রেখে দিল । কারন ভোট নেওয়ার জন্য তাকে তৈরি হতে হবে ।

শনিবার রাতে দীপালির হটাতই পেটে ব্যথা টা বেড়ে গিয়েছিল । ডাক্তার ২২ তারিখ সময় দিয়েছিলেন বাচ্চা হওয়ার , কিন্তু ১২ তারিখ রাত থেকেই কষ্টে কাঁদছিল দীপালি । বরুন আর বউ এর কষ্ট দেখে সহ্য করতে পারে নি । রাতেই এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মেদিনীপুর নার্সিংহমে এনে ভর্তি করে দিয়েছিল । ভোটের ডিউটি থাকায় পরদিনই তাকে বেরিয়ে পড়তে হয়েছে । বরুন এর বাবা আর বোন দীপালির সঙ্গে আছে । এই সময় বউ এর পাশে থাকতে না পেরে মনে মনে খুব কষ্ট পাচ্ছিল সে ।

******* সাত টা থেকেই ভোট গ্রহন শুরু হয়ে গেল । লাইন দিয়ে অনেকে ভোট দিচ্ছেন । নিরাপত্তা কর্মী বেশি নেই । কয়েকজন সিভিক পুলিস এর দেখা পাওয়া গেল ।

ভোটের কাজে বরুন ব্যস্ত হয়ে পড়লেও তার মন পড়ে রয়েছে দীপালির কাছে । দীপালি খুব ভয় পেত বাচ্চা হওয়ার আর অপারেশন এর কথা শুনে । সামান্য ইনজেকশনই নিতে চাইত না । বরুন হাত ধরে রাখলে তবেই নিত ।

কথা গুলো ভাবতেই খুব খারাপ লাগছিল বরুনের । কাজের মাঝে ফোন করারও উপায় নাই । শুধু ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছিল সে , যাতে তার বউ এর ডেলিভারি ভালো ভাবে হয়ে যায় ।

দুপুর হতেই দূরে বিকট ধরনের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যেতে লাগলো । পিজাইডিঙ্গ অফিসার অজিত বাবু ভয়ে বরুন এর পাশে এসে বললেন , “গণ্ডগোল বাঁধল মনে হয় “ ?

বরুন জিজ্ঞাসা করলো ,” আপনি ফোন করে বিষয় টা উচ্চ আধিকারিকদের জানান যাতে তারা বেশি সংখ্যক পুলিশ কর্মী পাঠায় আর আমাদের নিরাপত্তা দেয় “।

অজিত বাবু ফোন করতে লাগলেন । হটাত বিকট একটা শব্দ হল একেবারে ভোট কক্ষের জানালার পাশে । বোমা মারা হয়েছিল । যারা ভোট দিতে এসেছিলেন তারা যে যে দিকে পারলেন ছুটে পালাতে লাগলেন । ভোট কক্ষের মধ্যে ধোঁয়ায় ভোরে গিয়েছে । বরুনও ছুটে দরজা দিয়ে বাইরে বেরাতে যাবে এমন সময় একটা বোমা এসে তার সামনে পড়ল । ধোঁয়ায় ভোরে গেল চারিদিক । বরুন এর চোখে অন্ধকার নেমে এল । একটু পর চোখ খুলতেই দেখল তার জামা কাপড় রক্তে ভিজে গিয়েছে । সমস্ত শরীর এ ভীষণ এক কষ্ট । শরীর এর অনেকটা অংশ পুড়ে গিয়েছে । যন্ত্রণায় চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো বরুন । অজিত বাবু আর কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী ছুটে এল বরুন এর কাছে । তাকে সকলে মিলে ধরে গাড়িতে তুলল । বরুন গাড়িতেই জ্ঞান হারাল ।

********* যখন বরুন এর জ্ঞান ফিরল সে দেখলো নার্সিংহোম এর ব্যাডে শুয়ে আছে । পাশে বোন বসে কাঁদছে । বৃদ্ধ বাবা ঝুঁকে আছেন বরুন এর মুখের উপরে । তাঁরও চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছিল ।

বরুন খুব কষ্টে ধীরে বাবার কাছে জানতে চাইল , দীপালি কেমন আছে ?

বরুন এর বাবা দিপক বাবু চোখের জল মুছতে মুছতে বললেন , “ দীপালিকে অপারেশন থিয়েটার এ নিয়ে যাওয়া হবে এখন “। এই নার্সিংহোম এর প্রসূতি বিভাগে আছে সে ।

বোন কে বরুন বলল ফোনটা লাগাতে দীপালিকে । বোন মিনু ফোন টা লাগিয়ে বরুন এর কানের কাছে ধরল । ওপাশ থেকে দীপালির গলা । প্রথমেই দীপালি বলে উঠলো , “ তোমার ভোট নেওয়া শেষ হল ? কখন আসবে ? কোন অসুবিধা হয় নি তো “?

বরুন খুব ধীরে বলল , “ ভালো আছি । ভোট শেষ । আমি কিছুক্ষনের মধ্যেই ফিরবো । তুমি ভয় পেয়ো না । দেখ আমাদের সুন্দর ফুটফুটে একটা মেয়ে হবে । ঠিক তোমার মত । আমি কোলে নিয়ে খুব আদর করবো তাকে । ওর নাম রাখবো আশা । “ কথা গুলো বলতে বলতে বরুন এর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো , কান্নায় গলা ধরে এল ।

দীপালি বুঝতে পারল বরুন কাঁদছে । দীপালি বরুনকে বলল , “ কেঁদো না গো । তুমি এই সময় আমার পাশে থাকতে পারো নি বলে যে তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তা বুঝতে পারছি । তুমি টেনশন করো না গো । আমি ভয় পাবো না । তুমি ভোটের কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি এখনে চলে এসো “।

বরুন অনেক কষ্টে বলল ,” হ্যাঁ , আসব “। এই বলে ফোন রেখে দিল ।

*********** বরুন এর কষ্ট টা ক্রমাগত যেন বেড়েই চলেছে । সেলাইন চলছে । বার বার ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে । ওদিকে অপারেশন থিয়েটারে দীপালিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ।

কিছুক্ষন পরে বোন মিনু এসে জানাল যে , “বউ দি এর সুন্দর ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছে । বউদি এর এখন জ্ঞান ফিরে নি । তবে ডক্টর বলেছেন কোন অসুবিধা নেই । দুজনেই ভালো আছে “।

বরুন এর এত কষ্টের মধ্যেও মন প্রান আনন্দে ভরে গেল । ভগবান তার মনের কথা শুনেছেন । একটা ফুটফুটে মেয়ে দিয়েছেন । দীপালিও সুস্থ আছে ।

বাবা কে বরুন বলল যে , সে দীপালি আর তার মেয়ে কে দেখতে চায় ।

দিপক বাবু ডক্টর এর কছে গিয়ে জানালেন । একটু পরে নার্স একটা হুইল চেয়ার নিয়ে আসলো । তাতে বরুনকে সবাই ধরাধরি করে বসিয়ে নিয়ে গেল দীপালি আর তার মেয়ে যে রুম এ ছিল ।

বরুন দেখল দীপালি শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে । পাশে তাদের ছোট মেয়ে । তাদের আশা শুয়ে । কি সুন্দর । বরুন এর ইচ্ছে করছিল উঠে গিয়ে কোলে তুলে নিতে তার মেয়েকে । বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু এঁকে দিতে দীপালির কপালে । কি আনন্দ । তাদের দুজনের স্বপ্ন , তাদের আশা ।

একটু উঠার চেষ্টা করতেই কষ্ট টা আরও বেড়ে গেল বরুনের । নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে । সামনের সব কিছু আবছা হয়ে যাচ্ছে । দীপালি , আশা - তাদের মুখ গুলো আর দেখতে পাচ্ছে না । এখন ধীরে ধীরে চোখের সামনে অন্ধকার ঘন হয়ে আসছে ।

বরুন চিৎকার করে দীপালিকে ডাকতে চাইছে , কিন্তু গলা থেকে আর কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না । শুধু চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল । অন্ধকারের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে দীপালি, আশা , বাবা ,বোন সবাই ।

চিৎকার করে ভগবান এর উদ্দেশে বলতে ইচ্ছা করছিল –“ আমি মরতে চাই না ভগবান , দীপালি আর আশা কে নিয়ে বাঁচতে চাই , আমাকে মেরো না গো .........আমাকে মেরো না .........”

.................সমাপ্ত .........





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?