গল্প --চোর

3rd December 2020 7:12 pm তারিফ আলম
গল্প --চোর


টাকা গুলো গেল কোথায় মালতি , দোকানের ক্যাসবস্ক এ তো ছিল , তুমি নাও নি তো কে নিয়েছে” – খুব রেগে গিয়ে স্ত্রীকে বললেন অশোক বাবু ।

রাগ হওয়ারই কথা , ছোট একটা মুদি দোকান চালান অশোক বাবু । সংসারের ৫ সদস্যের সব খরচ এই দোকান থেকেই আসে । কিন্তু কিছু দিন থেকে ক্যসবাক্সতে টাকার খুব হের- ফের হচ্ছে । বাড়িতে স্ত্রী মালতি ছাড়া এক ছেলে দিনু আর মেয়ে সিতা । দিনু কলেজে পড়ে ইংরেজি অনার্স নিয়ে আর মেয়ে এবারে উচ্চমাধ্যমিক দেবে । আর অসুস্থ বুড়ি মা আছেন । দিন দিন সংসার খরচ বেঁড়েই চলেছে । কিন্তু ব্যবসায় লাভের টাকা কিছুই পাচ্ছেন না অশোক বাবু । টাকা কেউ যেন বের করে নিচ্ছে দোকানের ক্যাসবাক্স থেকে ।

“ আমি জানি না , দরকার হলে আমি তো টাকা চেয়ে নি তোমার কাছ থেকে “ – মালতি নরম সুরে বলব ।

অশোক বাবু এবারে মেয়ে সিতাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন সে টাকা নিয়েছে কি না ? মেয়ে সিতা মাথা নেড়ে জানায় যে সে টাকা নেয় নি । তখন অশোক বাবু ছেলে দিনুর রুমে গেলেন । দিনু কিছু যেন বই এর মধ্যে লুকাতে যাচ্ছিল । অশোক বাবু দেখে ফেলে জোর গলায় বলেন – “ দিনু তুই কি লুকাচ্ছিস দেখি ‘?

“ না বাবা , ও কিছু না “- ভয়ে ভয়ে উত্তর দেয় দিনু ।

অশোক বাবু নিজে এসে দিনুর কাছ থেকে বই ছিনিয়ে নিয়ে তার ভেতরে দেখলেন টাকা লুকানো । টাকা গুলো হাতে নিয়ে গুনে দেখলেন ৩০০ টাকা ।

এবারে খুব রেগে গিয়ে অশোক বাবু দিনুর চুলের মুঠি ধরে গালে জোরে জোরে দুই চড় লাগালেন আর চিৎকার করে বলতে লাগলেন – “ এসে দেখ মালতি তোমার ছেলে চোর হয়ে গিয়েছে , দোকানের ক্যাসবাক্স থেকে টাকা চুরি করেছে ।

মালতি ছুটে এলেন স্বামীর চিৎকার শুনে । দেখলেন দিনু মাথা নিচু করে কাঁদছে , তার চোখ দিয়ে অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে নীচে ।

“ আর মেরো না , ছেড়ে দাও , ও কোনদিন তো এমন কাজ করে নি “।

“ টাকা কেন চুরি করলি বল , তোর তো কোন অভাব রাখি নি , কেন করলি এ কাজ ‘?

মায়ের কথার কোন উত্তর না দিয়ে দিনু কাঁদতে কাঁদতে ছুটে বেরিয়ে গেল বাড়ী থেকে । মালতি চিৎকার করে ডাকতে লাগলো – “ যাস না দিনু , শুনে যা , ফিরে আয় বাবা , ভাত টা খেয়ে যা “।

মায়ের কোন কথার জবাব না দিয়ে দিনু ছুটতে ছুটতে চোখের আড়ালে চলে গেল ।

...............

সন্ধ্যে হয়ে গেল । দিনু এখনও বাড়ী ফিরে নি দেখে মালতি স্বামীর উপর রাগ করে বলল – “ তুমি কি গো , ছেলেটাকে এমন ভাবে মারলে , আমাদের তো একটি মাত্র ছেলে , কলেজ যাবে বলে বের হচ্ছিল , ভাতও খায় নি , তুমি এমন ভাবে মারলে ৩০০ টাকার জন্য “।

স্ত্রীর কথা গুলো শুনে কিছু না বলে একটা জামা গায়ে দিয়ে বাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়লেন । ছেলের গায়ে কোনদিন হাত তুলেন নি অশোক বাবু , আর আজ এত জোরে নিজের ছেলেকে চড় মারলেন । নিজের উপরে রাগ হতে লাগলো খুব । শান্ত স্বভাবের ছেলে দিনু । কোন দিন খারাপ কিছু কাজ করে নি । কেন যে সে চুরি করতে গেল টাকা । টাকা চেয়ে নিলে তো দিয়ে দিতাম – টিউশন আর কলেজের সব টাকা তো ঠিক টাইম মত দিয়ে দিই । হাত খরচও দি । তবুও কেন চুরি করতে গেল ছেলেটা । প্রশ্ন টা মনের মধ্যে ঘুরপাক করতে লাগলো । এদিকে মনে খুব কষ্ট হচ্ছে ছেলেকে চড় মারার জন্য ।

হাঁটতে হাঁটতে অমিতের বাড়ী এসে পৌঁছালেন । অমিত দিনুর বন্ধু ।

অমিতকে জিজ্ঞাসা করলেন দিনুকে সে দেখেছে কিনা কলেজে ।

অমিত বলল “কাকু দিনু তো কলেজ এখন যায় না , আর টিউশনও যায় না । “

“সে কি ? তাহলে সে কোথায় যায় ? “

সেটা আমি তো জানি না কাকু , কিন্তু কয়েকদিন আগে রেল স্টেশন এর পিছনে কয়েকটা ছেলের সাথে বসে থাকতে দেখেছিলাম ।

অশোক বাবু কথা গুলো শুনে খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন । কি করবেন ভেবে পেলেন না । নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা দিলেন । এত পড়াশুনায় ভালো ছেলে এমন কাজ করবে – তা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না ।

বেলদা বাজার থেকে ফেরার পথে গান্ধীপার্ক এর সামনে অনেক লোকের জটলা দেখলেন । সবাই একটা ছেলেকে ঘিরে ধরে প্রচুর পিটাচ্ছে । একটা লোককে জিজ্ঞসা করলেন , “ কিসের এত গণ্ডগোল “?

“ একটা সাইকেল চোর ধরা পড়েছে , সকলে মিলে তাকে মারছে “।

লোকটার কথা শুনে অশোক বাবু আর সে দিকে না ঢুকে পাশ কাটিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা দিলেন ।

“ বাবা গো , মরে গেলাম গো , আআআআ”।

হটাত সেই সাইকেল চোর ছেলেটার আর্তনাদ কানে আসতেই অশোক বাবু চমকে উঠলেন । এত খুব পরিচিত গলার আওয়াজ । ছুটে গিয়ে ভিড় ঠেলে দেখলেন কয়েকজন লোক লাঠি দিয়ে জোরে জোরে পিটাচ্ছে দিনুকে । দিনুর মাথা , মুখ ফেটে অঝোরে রক্ত বের হচ্ছে ।

অশোক বাবু ঝাঁপিয়ে পড়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বললেন – “ তোমারা কেউ মেরো না গো , ও আমার ছেলে , ও চোর নয় “।

অশোক বাবু গন্যমান্য ব্যক্তি , বেলদার অনেকেই চেনে । তাই সকলে সরে গেল ।

অশোক বাবু ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন – “ কেন তুই বাড়ী থেকে চলে এলি বেটা , তোকে চড় মারা ভুল হয়ে গিয়েছে , আর কোনদিন মারবো না রে , যত টাকা তোর দরকার আমি দেব , চুরি করে আমার মান – সম্মান নষ্ট করে দিস নারে “।

দিনু কাঁদতে কাঁদতে অনেক কষ্টে তার হাতের কাগজে মোড়া কিছু একটা বাবার হাতে দিল । অশোক বাবু কাগজটা খুলে দেখলেন তার মধ্যে পাওডার এর মত সাদা এক ধরণের বস্তু ।

অশোক বাবু জিজ্ঞাসা করলেন “ এগুলো কি”?

দিনু কাঁদতে কাঁদতে অনেক কষ্টে বলতে লাগলো “ এগুলোকে পাত্তি বলে , ব্রাউন সুগার এর মত নেশার বস্তু । আমার এক কলেজের বন্ধু আমাকে না জানিয়ে নেশা করিয়ে দেয় । আমি এই নেশা না নিলে অনেক কষ্ট পাই । এগুলোর দাম অনেক । প্রতিদিন তাই তোমার দোকানের ক্যাসবাক্স থেকে টাকা চুরি করে আমি এই নেশা কিনতাম । আজ টাকা পাই নি তাই নেশার কষ্টে থাকতে না পেরে চুরি করেছিলাম সাইকেল । আমি খুব খারাপ বাবা , আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও “।

অশোক বাবু ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন “ ক্ষমা করে দিয়েছি বাবা , তুই এই নেশা ছেড়ে দে , আবার পড়াশুনায় মন দে , তোকে ভালো রেজাল্ট করে পাশ করতে হবে । চাকরি পেয়ে আমাদের অভাবের সংসারের হাল ধরতে হবে । তোর বোনের বিয়ে দিতে হবে , ছেড়ে দে এ খারাপ নেশা বাবা , ছেড়ে দে “ – কথাগুলো বলা শেষ করে যখন নিজের বুক থেকে দিনুকে সরানোর চেষ্টা করলেন দিনু পড়ে গেল মাটিতে । স্থির চোখে চেয়ে ছিল বাবার দিকে , নিস্পাপ চোখ দুটোর পাশ দিয়ে রক্তের ধারা বয়ে চলছিল ।

অশোক বাবু চিৎকার করে ডাকতে লাগলেন - “ দিনু , দিনু , কথা বল বাবা আমার, এমন করিস নে , আমদের একা ছেড়ে যাসনে বাপ আমার , তোর মা তোর জন্য ভাত নিয়ে বসে অপেক্ষা করছে , তুই সকালে খেয়ে আসিস নি বলে তোর মাও ভাত খায় নি , তুই বাড়ী গেলে একসাথে খাবে বলে ,উঠরে বাপ আমার , আমাদের ছেড়ে যাসনারে , দিনুউউউউউ- “।

দিনু আর উঠবে না কোনোদিন । এভাবেই নেশার ঘোরে প্রান দিয়ে যাবে অনেক দিনু ।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?