নেপালের আদিকবি ভানুভক্ত

18th July 2020 4:27 pm প্রবন্ধ
নেপালের আদিকবি ভানুভক্ত


প্ৰবন্ধ :- "নেপালের আদিকবি ভানুভক্ত "
লেখক :- গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
*****
২৯শে আষাঢ় ,১৩ই জুলাই ১৮১৪ এ পশ্চিমী নেপালের চুংডী ব্যান্সী অঞ্চলের রাম্ঘা গ্রামে ধনী ব্রাহ্মণ বংশে জন্ম নেন নেপালের আদিকবি ভানুভক্ত আচার্য। আজ ওনার জন্মদিনে জানাই আমার সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং প্রণাম।
ধনী বংশজাত ভানুভক্ত আচার্য সংস্কৃতভাষা এবং শাস্ত্রজ্ঞানী ছিলেন। নেপাল এবং নেপালী ভাষার প্রতি উনি অগাধ অনুরাগী ছিলেন। ভানুভক্ত আচার্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হ​য়েছিলেন সমাজ এবং নেপাল দেশের জন্য নতুন কিছু করার জন্য। উনি উৎসাহ এবং প্রেরণা পেয়েছিলেন একজন অতি দরীদ্র শ্রমিকের কাছ থেকে, যিনি কেবল ঘাস কেটে জীবিকা নির্বাহণ করতেন। ঐ অঞ্চলে খুবই জলকষ্ট ছিল , সেই জন্য অঞ্চলের জলকষ্ট কি উপায়ে দূর হ​য়ে সমাজের লোকেদের সহজ উপায়ে জল পেতে সুবিধা হবে, এই চিন্তা করে সেই দরীদ্র শ্রমিক নিজেই একটা কুঁয়া খুঁড়ে ফেলেন , সেই কারণেই ঐ অঞ্চলের জলকষ্ট দুরীভুত হয়ে জনসাধারনের প্রভূত উপকার হল। এই মহান কাজটি দেখে অনুপ্রাণিত হ​য়ে ভানুভক্ত আচার্য চিন্তা করলেন যে - যদি একজন নিরক্ষর দরিদ্র শ্রমিক সমাজের কল্যাণের জন্য কিছু করতে পেরে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র হতে পারে, তবে আমি একজন শিক্ষিত ধনী হয়ে সমাজের জন্য কেন কিছু করতে পারব না ! লিখলেন :-
" ... কুঁয়া খনাও
ঘাশী দরিদ্র ধরবো ,
তর বুদ্ধি কস্তো
ম ভানুভক্ত ধনী ভৈখন
আজ এস্তো ....."।
ব্রাহ্মণ কুলে জন্মগ্রহণের জন্য রীতি নীতি অনুযায়ি পুজা - অর্চণাদির জন্য সংস্কৃতে বিশুদ্ধ জ্ঞান থাকার দরকার। সেই জন্য নিজের ঘরেই পিতামহের কাছে ভানুভক্ত আচার্য সংস্কৃত ভাষার অধ্যয়ণ করতেন। সংস্কৃতে প্রভুত জ্ঞান থাকার জন্য উনি চিন্তা করলেন যে যদি সংস্কৃতে লেখা মহাকাব্য রামায়ণের নেপালী ভাষায় অনুবাদ করা যায়, তবে সংস্কৃত ভাষা না জানা সাধারণ নেপালবাসী নেপালী ভাষায় রামায়ণ পাঠ করে রামায়ণের মধুরস আস্বাদন করতে পারবে এবং সমাজের জন্যেও কিছু করা হবে। অনতিবিলম্বে আরম্ভ করলেন নেপালী ভাষায় রামায়ণের অনুবাদের কাজ আচার্য ভানুভক্ত। পূর্ণ করে ফেললেন নেপালী ভাষায় রামায়ণের অনুবাদ। এই মহান কাজের জন্য উনি নেপালবাসীর কাছে শ্রদ্ধার এবং সম্মানের পাত্র হয়ে প্রসিদ্ধী লাভ করেন। ক্রমাগত চলতে থাকে ওনার সহিত্য এবং কাব্য চর্চা। নেপালী ভাষায় বহু কবিতা লেখেন এবং সংস্কৃত ভাষায় লেখা অনেক কাব্য এবং সাহিত্যেরও উনি নেপালী ভাষায় অনুবাদ করে নেপালবাসীকে সাহিত্য এবং কাব্যরসে অবগাহিত করান। এই মহান কাজের জন্যই ভানুভক্ত আচর্যকে "নেপালের আদি কবি" বলা হয় এবং ওনার জন্ম দিনকে উৎসবের দিনরূপে নেপালে শ্রদ্ধার সঙ্গে আজও পালন করা হয়।
নেপালের আদি কবি ভানুভক্ত আচার্য মহাশয়কে পুনরায় প্রণাম জনাই॥





Others News

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক


প্রবন্ধ :-  "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" 
লেখক :-  ডঃ .গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
                         ***
     "জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ "
                             * 
   " স্বরাজ আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার, যেটা আমি নিয়েই ছাড়ব।"  পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সিংহের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম গর্জে উঠেছিলেন এক নির্ভিক ভারতীয় সিংহ,যিনি একাধারে বিদ্বান, অর্থলোভমুক্ত, ত্যাগী, সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী, হিন্দু রাষ্ট্রবাদের জনক, লোকসেবক শক্তিমান পুরুষ, যাঁকে সর্বলোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" বলে সম্বোধন করে, তিনি হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক (আসল নাম কেশব গঙ্গাধর তিলক, বিবাহের পরে ওনার স্ত্রীর বংশানুসারে " কেশব গঙ্গাধর "  নামের পরিবর্তিত হয়ে "বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে পরিচিত হলেন)। মহারাষ্ট্রের  চিক্কন গ্রামে ২৩/০৭/১৮৫৬  সালে ওনার জন্ম হয় এবং ০১/০৮/১৯২০ সালে বোম্বাই এ বর্তমানে ( মুম্বাই) ওনার দেহত্যাগ হয়।  
        ডীকান কলেজ থেকে বি.এ.পাস করার পরে উনি গভর্নমেন্ট " ল " কলেজ ( ইউনিভার্সিটী অফ বোম্বাই (মুম্বাই) থেকে  "ল" পাস করেন, কিন্তু, অর্থ লোভমুক্ত বাল গঙ্গাধর তিলক, যিনি , নিজেকে সমাজ  কল্যাণে সমর্পিত করেছেন, তিনি " ল " পাস করেও আদালতে ওকালতি না করে শিক্ষার প্ৰসারের জন্য স্কুলে শিক্ষকের চাকুরীতে যোগ দিলেন এবং ১৮৮০ সালে স্থাপনা করলেন " ন্যু ইংলীশ স্কুলের" । কিছু বছর পরে স্থাপনা করলেন    " ফারগুইজন " কলেজের। বিদ্বান, ত্যাগী,  সরল,  নিঃস্বার্থ পরোপকারে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে সমর্পিত নিরলস নির্ভিক স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়কে মহারাষ্টের লোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" নামে সম্বোধন করতে আরম্ভ করল। সেই থেকে উনি "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে ভারতে তথা  বিশ্বে পরিচিত হলেন। অসাধারণ সাংগঠনিক কর্মদক্ষতা ছিল লোকমান্যের! স্বাধীনতার জন্য চলছে আন্দোলন কে তীব্র করার জন্য জনমত এবং  জনচেতনাকে জাগিয়ে তুলে সংবাদ আদান প্রদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচলিত করেছিলেন " গনেশ উৎসব" এর । 
  ভারতে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র জনান্দোলন এবং আলোচনা করার জন্য ইংরেজ সরকার ওনার উপর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ লাগিয়ে ৬ বছরের জন্য দেশের বাইরে করার আদেশ দিয়ে বর্মার মান্ডালে জেলে পাঠিয়ে দিল,  কিন্তু, কর্মতৎপর লোকমান্য তিলক মহাশয় জেলে বন্দী অবস্থায় রচনা করেছিলেন " গীতা রহস্য " এর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে যখন উনি "গীতা রহস্য" এর প্রকাশণ করেছিলেন তখন ভীষণ জন আলোরণ তৈরী হয় সম্পূর্ণ দেশে। 
     à¦¨à¦¿à¦°à§à¦­à¦¿à¦• সাংবাদিক লোকমান্য তিলক দুটি সংবাদ পত্রের প্রকাশণ করেছিলেন - একটি ইংরাজীতে       " মারাঠা"  নামে এবং অপরটি মারাঠী ভাষায় "দৈনিক কেশরী" নামে। প্রকাশিত সংবাদপত্র গুলির মাধ্যমে লোকমান্য তীব্রভাবে ইংরেজ শাসনের নিন্দা এবং সমালোচনা শুরু করেছিলেন, যার জন্য ওনাকে প্রায়ই জেলে যেতে হত। স্বায়ত্ব বা সুশাসনের দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে ১৯১৬ - à§§à§® সালে  গঠণ করলেন "অল ইন্ডিয়া রূল লীগের"। ক্রান্তিকারী আন্দোলনের সমর্থক তিলক সম্পূর্ণভাবে গান্ধীজীর অসহযোগ অন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, এনী বসন্ত, মহম্মদ আলী জীন্নাহ  ইত্যাদি মহান ব্যাক্তিত্বের সংযুক্ত আন্দোলনে বিচলিত হয়েছিল ইংরেজ প্রশাসন। সম্পূর্ণ ভারতে তখনকার দিনের একটা বহুল প্রচলিত শ্লোগান ছিল "লাল বাল পাল "। বিখ্যাত তিন মহান ব্যাক্তিত্ব !
  ভারত মায়ের মহান সন্তান লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক। ওনার নাম আজ ও স্বাধীন ভারতবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । 
  লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়ের শ্রীচরনে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ।