বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ -- গোপাল চন্দ্র মুখার্জী

1st July 2020 11:53 am প্রবন্ধ
বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ -- গোপাল চন্দ্র মুখার্জী


প্ৰবন্ধ :- " বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ "
লেখক :- গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
***
আজ ,ভারত রত্ন, বাংলার বাঘ,বহু বিষ​য়ে বিদ্বান স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ওনার শ্রীচরনে অর্পণ করলাম শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং প্রণাম।
অত্যন্ত কর্তব্য পরায়ন, মেধাবী, কর্মগতপ্রাণ, রচনাকার, জ্ঞানী ,স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
তাঁর গুরুগম্ভীর, নির্ভীক বা নিষ্পক্ষ স্বভাবের জন্য ইংরেজ সরকার থেকে সম্পূর্ণ ভারতবর্ষ এবং বিশ্ব ওনাকে "বাংলার বাঘ" নামে জানে।
কথায় আছে জহূরী সোনা চেনে - সেই রকম স্যার আশুতোষ সমগ্র ভারত থেকে মেধাবী ছাত্রদের ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটীর জন্য সংগ্রহ করেছিলেন। সেই সকল ছাত্রগণ সবাই বিশ্ব প্রসিদ্ধ হয়েছেন। তাঁরা হলেন - স্যার সী.ভী.রমন, স্যার পি.সি.রায় , স্যার ব্রজেন্দ্র নাথ শীল ইত্যাদি ইত্যাদি।
উনি নিজেও একজন " মেধা বৃত্তী" পাওয়া ছাত্র ছিলেন। অঙ্ক এবং ফিজিক্স বিষ​য়ে এম.এ.পাশ করার পর উনি ক্যালকাটা সিটী কলেজ থেকে "টেগোর গোল্ড মেডেল" পেয়ে বী.এল. পাশ করেন এবং কোর্টে ওকালতি চালু করেন। ১৮৯৪ এ উনি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটী থেকে এম.এল " Law " তে ডক্টরেট ডিগ্রী পেয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই "টেগোর ল" প্রফেসর নিযুক্ত হন। ওনার লেখা বই
" The law of perpetuilies in British India."
১৯০৪ সালে উনি ক্যালকাটা হাইকোর্টে বিচারপতি নিযুক্ত হলেন। কিন্তু, ১৯০৬ সালে ইংরেজ সরকার ডক্টর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে অনেক বিষ​য়ে বিদ্বান এবং প্রখর পান্ডিত্যের জন্য ক্যালকাটা ইউনিভর্সিটীতে ভাইস চ্যান্সেলারের পদে নিযুক্ত করে।
ইংরেজ সরকার ১৯১১ সালে ডক্টর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে " দ্য বৃটিশ ক্রাউন" নাইট, স্যার উপাধী দিয়ে সম্মানিত করে।
ওনার বহু বিষয়ে অধ্যাপনা এবং উইনিভর্সিটী সফল, সংচালন সহ পারদর্শী পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন যেটা পরবর্তী সম​য়ে সম্পূর্ণ ভারতের সকল বিশ্ববিদ্যাল​য় গুলি অনুসরণ করে। এইসব মহান কারণের জন্য ইংরেজ সরকার স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মহাশ​য়কে ১৯২১ সালে পুনরায় ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটীতে ভাইস চ্যান্সেলারের পদে নিযুক্ত করে।
বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মহাশ​য় জীবনের অন্তিম দিন পর্য্যন্ত কর্মগত প্রাণ ছিলেন এবং দেশ - বিদেশের বিভিন্ন নামী সংস্থার সক্রীয়তার সংগে যুক্ত ছিলেন।
সদস্য, দ্য র​য়েল এশিয়াটিক স্যোসাইটী অফ বেঙ্গল, ফেলো, দ্য এডীনবুর্গ র​য়েল স্যোসাইটী, দ্য র​য়েল এস্টোনোমিক্যাল সোস্যাইটী, সদস্য,
র​য়েল আইরীশ একাডেমী, সদস্য, দ্য ম্যাথেমেটিক্যাল সোস্যাইটী অফ লন্ডন, এডীনবুর্গ, প্যারিস, পালের্মো, নিউইয়র্ক।
এছাড়াও, ১৯০৮ সালে উনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দ্য ক্যালকাটা ম্যাথেম্যাটিক্যাল সোস্যাইটী। উনি এই সংস্থায় জীবনের অন্তিম দিন পর্য্যন্ত " প্রেসিডেন্টের" পদে আসীন ছিলেন।





Others News

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক


প্রবন্ধ :-  "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" 
লেখক :-  ডঃ .গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
                         ***
     "জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ "
                             * 
   " স্বরাজ আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার, যেটা আমি নিয়েই ছাড়ব।"  পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সিংহের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম গর্জে উঠেছিলেন এক নির্ভিক ভারতীয় সিংহ,যিনি একাধারে বিদ্বান, অর্থলোভমুক্ত, ত্যাগী, সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী, হিন্দু রাষ্ট্রবাদের জনক, লোকসেবক শক্তিমান পুরুষ, যাঁকে সর্বলোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" বলে সম্বোধন করে, তিনি হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক (আসল নাম কেশব গঙ্গাধর তিলক, বিবাহের পরে ওনার স্ত্রীর বংশানুসারে " কেশব গঙ্গাধর "  নামের পরিবর্তিত হয়ে "বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে পরিচিত হলেন)। মহারাষ্ট্রের  চিক্কন গ্রামে ২৩/০৭/১৮৫৬  সালে ওনার জন্ম হয় এবং ০১/০৮/১৯২০ সালে বোম্বাই এ বর্তমানে ( মুম্বাই) ওনার দেহত্যাগ হয়।  
        ডীকান কলেজ থেকে বি.এ.পাস করার পরে উনি গভর্নমেন্ট " ল " কলেজ ( ইউনিভার্সিটী অফ বোম্বাই (মুম্বাই) থেকে  "ল" পাস করেন, কিন্তু, অর্থ লোভমুক্ত বাল গঙ্গাধর তিলক, যিনি , নিজেকে সমাজ  কল্যাণে সমর্পিত করেছেন, তিনি " ল " পাস করেও আদালতে ওকালতি না করে শিক্ষার প্ৰসারের জন্য স্কুলে শিক্ষকের চাকুরীতে যোগ দিলেন এবং ১৮৮০ সালে স্থাপনা করলেন " ন্যু ইংলীশ স্কুলের" । কিছু বছর পরে স্থাপনা করলেন    " ফারগুইজন " কলেজের। বিদ্বান, ত্যাগী,  সরল,  নিঃস্বার্থ পরোপকারে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে সমর্পিত নিরলস নির্ভিক স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়কে মহারাষ্টের লোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" নামে সম্বোধন করতে আরম্ভ করল। সেই থেকে উনি "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে ভারতে তথা  বিশ্বে পরিচিত হলেন। অসাধারণ সাংগঠনিক কর্মদক্ষতা ছিল লোকমান্যের! স্বাধীনতার জন্য চলছে আন্দোলন কে তীব্র করার জন্য জনমত এবং  জনচেতনাকে জাগিয়ে তুলে সংবাদ আদান প্রদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচলিত করেছিলেন " গনেশ উৎসব" এর । 
  ভারতে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র জনান্দোলন এবং আলোচনা করার জন্য ইংরেজ সরকার ওনার উপর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ লাগিয়ে ৬ বছরের জন্য দেশের বাইরে করার আদেশ দিয়ে বর্মার মান্ডালে জেলে পাঠিয়ে দিল,  কিন্তু, কর্মতৎপর লোকমান্য তিলক মহাশয় জেলে বন্দী অবস্থায় রচনা করেছিলেন " গীতা রহস্য " এর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে যখন উনি "গীতা রহস্য" এর প্রকাশণ করেছিলেন তখন ভীষণ জন আলোরণ তৈরী হয় সম্পূর্ণ দেশে। 
     à¦¨à¦¿à¦°à§à¦­à¦¿à¦• সাংবাদিক লোকমান্য তিলক দুটি সংবাদ পত্রের প্রকাশণ করেছিলেন - একটি ইংরাজীতে       " মারাঠা"  নামে এবং অপরটি মারাঠী ভাষায় "দৈনিক কেশরী" নামে। প্রকাশিত সংবাদপত্র গুলির মাধ্যমে লোকমান্য তীব্রভাবে ইংরেজ শাসনের নিন্দা এবং সমালোচনা শুরু করেছিলেন, যার জন্য ওনাকে প্রায়ই জেলে যেতে হত। স্বায়ত্ব বা সুশাসনের দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে ১৯১৬ - à§§à§® সালে  গঠণ করলেন "অল ইন্ডিয়া রূল লীগের"। ক্রান্তিকারী আন্দোলনের সমর্থক তিলক সম্পূর্ণভাবে গান্ধীজীর অসহযোগ অন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, এনী বসন্ত, মহম্মদ আলী জীন্নাহ  ইত্যাদি মহান ব্যাক্তিত্বের সংযুক্ত আন্দোলনে বিচলিত হয়েছিল ইংরেজ প্রশাসন। সম্পূর্ণ ভারতে তখনকার দিনের একটা বহুল প্রচলিত শ্লোগান ছিল "লাল বাল পাল "। বিখ্যাত তিন মহান ব্যাক্তিত্ব !
  ভারত মায়ের মহান সন্তান লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক। ওনার নাম আজ ও স্বাধীন ভারতবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । 
  লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়ের শ্রীচরনে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ।