ভারত রত্ন ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়

1st July 2020 11:45 am প্রবন্ধ
ভারত রত্ন ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়


প্ৰবন্ধ :- " ভারত রত্ন ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় "
লেখক :- গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
*****
আজ পহেলা জুলাই, জন্ম এবং তিরোধান দিবস উপলক্ষে ভারতরত্ন ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়কে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করলাম।
আজকের দিনটাকে ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়কে শ্রদ্ধা অর্পণ করে গোটা বিশ্বে "বিশ্ব চিকিৎসক দিবস ( World Doctor's day )" মানানো হয়। তাই সমস্ত চিকিৎসকগণকে জানাই অভিনন্দন।
১৪ বছর ( সন ১৯৪৮ থেকে ১৯৬২) ধরে জীবনের শেষ দিন পর্য্যন্ত পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ব্রহ্মচারী, সেবাব্রত, উচ্চ শিক্ষিত, স্বাধীনতা সংগ্রামী, সরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী রাজনীতিজ্ঞ ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়।
ক্যালকাটা প্রেসিডেন্সী কলেজে অধ্যয়নের পরে উনি পাটনা কলেজ (ক্যালকাটা ইউনিভর্সিটী) থেকে এম.ডি. ডিগ্রী পান। ডক্টর বিধান চন্দ্র রায়কে ১৯৪২ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। " ডাক্তার অফ সাইন্স" উপাধীতে সম্মানিত করা হয়।
অসামান্য প্রতিভার অধিকারী ছিলেন ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়। গোটা বিশ্বে যে কয়েকজন ব্যক্তিত্ব সেই সময় একই সঙ্গে এফ.আর.সী.এস. (F.R.C.S.) ডিগ্রী এবং এম.আর.সী.পী. ( M.R.C.P) ডিগ্রী পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় অন্যতম একজন। মাত্র ২ বছর ৩ মাসেই (F.R.C.S) এফ.আর.সী.এস. ডিগ্রী এবং (M.R.C.P.) এম.আর.সী.পী. ডিগ্রী প্রাপ্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ই হচ্ছেন আধুনিক সুন্দরী পশ্চিমবঙ্গের মূর্তরূপকার। বিধান চন্দ্রের সফল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হল দূর্গাপুর, দিঘা, কল্যাণী , বিধান নগর ,অশোক নগর, হাবড়া।
১৯৬১ সালে ভারত সরকার মানব সেবাগত প্রাণ পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়কে "ভারত রত্ন" উপাধী দিয়ে সম্মানিত করেন।
ভারত রত্ন ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় এর বক্ত্যব্য হল আসল স্বাধীনতা তখনই হবে, যখন দেশবাসী শারীরিক এবং মানসিক সুস্থ্য থাকবে ...
জয়তু: ভারত রত্ন ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়॥
হ্যাপী ডক্টর'স ডে ॥





Others News

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক


প্রবন্ধ :-  "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" 
লেখক :-  ডঃ .গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
                         ***
     "জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ "
                             * 
   " স্বরাজ আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার, যেটা আমি নিয়েই ছাড়ব।"  পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সিংহের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম গর্জে উঠেছিলেন এক নির্ভিক ভারতীয় সিংহ,যিনি একাধারে বিদ্বান, অর্থলোভমুক্ত, ত্যাগী, সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী, হিন্দু রাষ্ট্রবাদের জনক, লোকসেবক শক্তিমান পুরুষ, যাঁকে সর্বলোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" বলে সম্বোধন করে, তিনি হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক (আসল নাম কেশব গঙ্গাধর তিলক, বিবাহের পরে ওনার স্ত্রীর বংশানুসারে " কেশব গঙ্গাধর "  নামের পরিবর্তিত হয়ে "বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে পরিচিত হলেন)। মহারাষ্ট্রের  চিক্কন গ্রামে ২৩/০৭/১৮৫৬  সালে ওনার জন্ম হয় এবং ০১/০৮/১৯২০ সালে বোম্বাই এ বর্তমানে ( মুম্বাই) ওনার দেহত্যাগ হয়।  
        ডীকান কলেজ থেকে বি.এ.পাস করার পরে উনি গভর্নমেন্ট " ল " কলেজ ( ইউনিভার্সিটী অফ বোম্বাই (মুম্বাই) থেকে  "ল" পাস করেন, কিন্তু, অর্থ লোভমুক্ত বাল গঙ্গাধর তিলক, যিনি , নিজেকে সমাজ  কল্যাণে সমর্পিত করেছেন, তিনি " ল " পাস করেও আদালতে ওকালতি না করে শিক্ষার প্ৰসারের জন্য স্কুলে শিক্ষকের চাকুরীতে যোগ দিলেন এবং ১৮৮০ সালে স্থাপনা করলেন " ন্যু ইংলীশ স্কুলের" । কিছু বছর পরে স্থাপনা করলেন    " ফারগুইজন " কলেজের। বিদ্বান, ত্যাগী,  সরল,  নিঃস্বার্থ পরোপকারে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে সমর্পিত নিরলস নির্ভিক স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়কে মহারাষ্টের লোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" নামে সম্বোধন করতে আরম্ভ করল। সেই থেকে উনি "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে ভারতে তথা  বিশ্বে পরিচিত হলেন। অসাধারণ সাংগঠনিক কর্মদক্ষতা ছিল লোকমান্যের! স্বাধীনতার জন্য চলছে আন্দোলন কে তীব্র করার জন্য জনমত এবং  জনচেতনাকে জাগিয়ে তুলে সংবাদ আদান প্রদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচলিত করেছিলেন " গনেশ উৎসব" এর । 
  ভারতে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র জনান্দোলন এবং আলোচনা করার জন্য ইংরেজ সরকার ওনার উপর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ লাগিয়ে ৬ বছরের জন্য দেশের বাইরে করার আদেশ দিয়ে বর্মার মান্ডালে জেলে পাঠিয়ে দিল,  কিন্তু, কর্মতৎপর লোকমান্য তিলক মহাশয় জেলে বন্দী অবস্থায় রচনা করেছিলেন " গীতা রহস্য " এর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে যখন উনি "গীতা রহস্য" এর প্রকাশণ করেছিলেন তখন ভীষণ জন আলোরণ তৈরী হয় সম্পূর্ণ দেশে। 
     নির্ভিক সাংবাদিক লোকমান্য তিলক দুটি সংবাদ পত্রের প্রকাশণ করেছিলেন - একটি ইংরাজীতে       " মারাঠা"  নামে এবং অপরটি মারাঠী ভাষায় "দৈনিক কেশরী" নামে। প্রকাশিত সংবাদপত্র গুলির মাধ্যমে লোকমান্য তীব্রভাবে ইংরেজ শাসনের নিন্দা এবং সমালোচনা শুরু করেছিলেন, যার জন্য ওনাকে প্রায়ই জেলে যেতে হত। স্বায়ত্ব বা সুশাসনের দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে ১৯১৬ - ১৮ সালে  গঠণ করলেন "অল ইন্ডিয়া রূল লীগের"। ক্রান্তিকারী আন্দোলনের সমর্থক তিলক সম্পূর্ণভাবে গান্ধীজীর অসহযোগ অন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, এনী বসন্ত, মহম্মদ আলী জীন্নাহ  ইত্যাদি মহান ব্যাক্তিত্বের সংযুক্ত আন্দোলনে বিচলিত হয়েছিল ইংরেজ প্রশাসন। সম্পূর্ণ ভারতে তখনকার দিনের একটা বহুল প্রচলিত শ্লোগান ছিল "লাল বাল পাল "। বিখ্যাত তিন মহান ব্যাক্তিত্ব !
  ভারত মায়ের মহান সন্তান লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক। ওনার নাম আজ ও স্বাধীন ভারতবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । 
  লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়ের শ্রীচরনে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ।