ওরা কারা - কলমে কথাকলি

27th May 2020 5:37 pm গল্প
ওরা কারা - কলমে কথাকলি


বড় গল্প

ওরা কারা

কলমে - কথাকলি

গত দুদিন ধরে সুপ্রকাশ বাবুর রাতে একেবারেই ভালো ঘুম হচ্ছে না। বাড়িতে মানুষ মাত্র দুজন,উনি আর উনার স্ত্রী বিমলা। সুপ্রকাশ বাবুর বয়স প্রায় সত্তর এর কাছাকাছি, গিন্নীরও সেই অনুযায়ী বেশ বয়স হয়েছে। বাড়ির কাজকর্মের জন্য একটা ঠিকে কাজের লোক আছে এছাড়া একজন রান্নার লোকও আছে। গিন্নী হাঁটুর ব্যাথার জন্য বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে রান্না করতে পারেন না। রিটায়ার করার পর থেকেই অবসর সময় কাটানোর জন্য সুপ্রকাশবাবু সাহিত্যচর্চা করেন মানে রীতিমতো বেশ ভালো গল্প-উপন্যাস লেখেন এবং এ পর্যন্ত যতজনের সেসব গল্প পড়ার সুযোগ হয়েছে সকলেরই তার লেখা খুবই ভালো লেগেছে। তাই ইদানীং সুপ্রকাশবাবুর মনে তার নিজস্ব গল্পের বই ছাপানোর একটা সুপ্ত ইচ্ছা দেখা দিয়েছে। একজন প্রকাশকের সাথে কথাও হয়েছে এ ব্যাপারে । সামনের সপ্তাহের মধ্যে প্রায় একশোটা মতো গল্প সমস্ত বানান দেখে একেবারে চূড়ান্ত সংশোধন করে প্রকাশকের হাতে দিতে হবে। বহুদিন ধরেই উনি বিস্তর লেখালেখি করেছেন। সেই হিসেবে দেখতে গেলে সব মিলিয়ে গল্পের সংখ্যা একশোর বেশিই হবে। সেখান থেকে বেছে উনি সবথেকে ভালোগুলো দেবেন বলে ঠিক করলেন। বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। গিন্নীকে এ ব্যাপারে কিছুই বলেন নি,সেইকারণে মনে মনে একটা চাপা উত্তেজনা অনুভব করছিলেন। দুপুরে খাওয়ার পরে আজকাল আর বিশ্রাম নিয়ে সময় নষ্ট করেন না। গল্প পড়ে সংশোধনের কাজ মোটামুটি হয়ে এসেছে তবে পাঁচটা গল্প একটু আধাখ্যাঁচড়া মনে হচ্ছে, সেগুলো সাজিয়ে-গুছিয়ে ঠিক করতে হবে।
সেদিন রাত প্রায় বারোটা পর্যন্ত লেখালিখির কাজ করে কয়েকটা গল্প দেখা অর্ধসমাপ্ত রেখেই সুপ্রকাশবাবু বিছানায় ঘুমাতে গেলেন। গরমকাল ঘরের চারিদিকে জানলা খোলা। তিনতলার ওপর মশার তেমন উপদ্রব নেই, তাছাড়া মশার তেল প্লাগে লাগানো আছে। মাথার দিকে দক্ষিণের জানলা দিয়ে চমৎকার ফুর ফুরে বাতাস আসছে। বিছানার ডান পাশে আরও একটা বড়ো জানলা। জানলার ওপাশে বারান্দা। সুপ্রকাশবাবু বিছানায় শুয়ে বারান্দার ওপাশে নিমগাছটার দিকে চেয়ে থাকলেন। ভারি সুন্দর লাগে দেখতে। হাওয়ায় নিমের পাতাগুলো কেমন ঝিরিঝিরি কাঁপছে। ঠিক তার পাশেই একটা আমগাছ। বাগানের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে একসময় উনার দুচোখের পাতায় ঘুম জড়িয়ে এলো। এভাবে কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলেন জানা নেই! বেশকিছুক্ষণ পরে একসময় মনে হলো জানলার ওপাশে বারান্দায় আবছা আলোয় কে যেনো দাঁড়িয়ে। রাস্তার লাইটপোস্টের হাল্কা আলো এসে পরেছে, তাতে দেখে মনে হলো একজন মহিলা। কি ব্যাপার, এতো রাতে কে এখানে? সুপ্রকাশবাবু বিছানায় উঠে বসলেন। হ্যাঁ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন একজন মহিলা পিছনফিরে দাঁড়িয়ে। সুপ্রকাশবাবু এবার উঠে বারান্দায় এলেন। অপরিচিতার মুখ দেখা যাচ্ছে না। তবু সাহস করে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন--"কে আপনি, এতো রাতে এখানে কি করে এলেন?" এবার মহিলা মুখ ফেরালেন কিন্তু মুখ হাল্কা অন্ধকারে ঢাকা,পরিস্কার দেখা গেলো না। মহিলাটি বলে উঠলেন-- "আমাকে চিনতে পারছেন না? আমি অনন্যা, অনন্যা ঘোষ। চিনতে পারছেন আমাকে? যাকে আপনি মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে বিধবা করে দেন। এবার চিনতে পারলেন কি? পৃথিবীর যতো কষ্ট, দূর্ভোগ, জ্বালা-যন্ত্রনা আপনি আমার ভাগ্যেই লিখলেন! একটু কি সুখের করতে পারতেন না আমার জীবনটা? স্বামী, সন্তান, কোনো সুখই তো দিলেন না আমার কপালে। তবু এই দয়ামায়াহীন জগতে শত দুঃখ কষ্টের মধ্যেও আমাকে বাঁচিয়ে রাখলেন। চাইলে একটু অন্যরকম করে কি লিখতে পারতেন না আমার জীবনের গল্পটা!....." সুপ্রকাশবাবু হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইলেন। এই মেয়েটি তো তার লেখা 'অভাগী' গল্পের চরিত্র অনন্যা। কিন্তু তা কি করে সম্ভব! আজ তার গল্পের চরিত্র এভাবে জীবন্ত হয়ে এসে তার কাছে অনুযোগ, অভিযোগ করছে! এও কি সম্ভব! এসব কথাই মনে মনে ভাবছেন, এমন সময় দেখলেন আবছায়া আলো-অন্ধকারের মধ্যে থেকে উঠে এলো আরেকজন। গায়ে ছেঁড়া ময়লা জামা, উস্কো-খুস্কো চুল, চোখদুটো কোটরে ঢুকে গেছে.....একটা বুভুক্ষু চেহারা। সে ক্রমশ সুপ্রকাশবাবুর দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। ভয়ে উনার দম বন্ধ হবার জোগাড় হলো, তারমধ্যেই উনি জিজ্ঞেস করলেন -- "কে তুমি কে কে কে?" উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি বলে উঠলো-- "চেয়ে দেখুন,চেয়ে দেখুন ভালো করে কে আমি। আমি দিবাকর। বেকার এক যুবক। দিনের পর দিন চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছি কোলকাতার রাস্তায় রাস্তায়। একটা কেরানীর চাকরিও জুটলো না কপালে, অথচ এম.এ পাশ। বাড়িতে রুগ্ন অসুস্থ বাবা, অবিবাহিত বোন। টিউশনির টাকায় সংসার চালানো দায়। বাবার অষুধের পেছনেই সব শেষ, সেখানে বোনের বিয়ের টাকা কোথায় পাবো! পাড়ার একটা ছেলের সাথে বোনটা মুখকালো করলো। তারপর লজ্জা ঢাকতে গলায় দঁড়ি দিলো। মনে পরেছে এবার? এই দিবাকরের কথা? একটু সুখের কথা কি লিখতে পারতেন না আমাদের জীবনে? কেনো দিলেন এমন একটা হতভাগ্য জীবন কেনো কেনো?" সুপ্রকাশবাবুর মনে পরলো এ যে তার লেখা সেই গল্পটা যার নাম 'বেকার'। কিন্তু এ কি করে সম্ভব হচ্ছে, গল্পের প্রধান চরিত্ররা এভাবে তার কাছে এসে অভিযোগ করছে....!এ কি করে সম্ভব! সুপ্রকাশবাবু মাথায় হাত দিয়ে ধীরে ধীরে বারান্দায় বসে পরলেন। সামনে তাকিয়ে দেখার আর সাহস হলো না। এমনসময় শুনতে পেলেন আবার একটি মেয়েলী কন্ঠ-- "এই যে লেখক মশায়, আমাদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে যাবেন কোথায়? আমরা সবাই তো আপনারই সৃষ্টি। এই যেমন আমাকে এতো সুন্দর রূপ,যৌবন,স্বামী,সংসার সব দিলেন কিন্তু কোলে সন্তান দিলেন না। আমি বাঁজা বলে শেষপর্যন্ত আমার দজ্জাল শ্বাশুড়িমা আমার স্বামীর আবার বিয়ে দিলো, আর আমার স্থান হলো বাপের বাড়িতে। পেটে তো তেমন বিদ্যে বুদ্ধিও দেননি তাই শেষমেশ নোংরা পথেই নামতে হলো। বাপের বাড়ি হলেই বা ভাই-বৌএর সংসারে কি আমায় বসিয়ে খাওয়াবে! শেষ পর্যন্ত নিজের বাড়ি ঘর ছেড়ে ফুলতলির চাঁপা মাসির ডেরাই হলো আমার শেষ আশ্রয়। এটা কি কোনো জীবন নাকি বলুন লেখকবাবু? মানুষের লোভ আর লালসার শিকার হয়েছি প্রতি পদে পদে, দেখেছি নিজেরই পরিবারের লোকেদের দুচোখ ভরা ঘৃণা আমার প্রতি। আমাদের কারো কপালে আপনি একটু সুখ লিখে দিলেন না! দুঃখ-কষ্টে ভরিয়ে দিলেন জীবনগুলো! ভাবলেন এসব সকরুণ, দুঃখের কাহিনী পড়ে সবাই কতোই না বাহ্বা দেবে। কিন্তু আমাদের জীবনগুলো যে সব ছারখার হয়ে গেলো। তার কি হবে? কেনো এমন করলেন.... কেনো কেনো? ভয়ে সুপ্রকাশবাবু আর মুখ তুলে চাইতে পারলেন না। আজ এতোদিন পরে হঠাৎ মাঝরাতে এইভাবে তার গল্পের সব চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে এসেছে তার কাছে তাদের মনের কথা জানাতে! এ কি করে সম্ভব, কি করে সম্ভব!.......
সকালবেলা সুপ্রকাশবাবুর গিন্নী উনাকে ঘরের পাশে বারান্দার মেঝেতে ঘুমন্ত অবস্থায় পান। এরকম ঘটনা এর আগে কোনোদিন ঘটে নি, তাই গিন্নী খুবই অবাক হলেন। দেখা গেলো উনার শরীর ঠিকই আছে, তবে হঠাৎ করে কেমন যেনো গুম্ মেরে গেছেন। গিন্নীর সব কথায় কেবল হুঁ-হাঁ করে সায় দিয়ে গেলেন। সারাদিন নিয়মমাফিক সব কাজকর্ম চললো, কিন্তু একবারও তিনি তার লেখালেখির কাজ নিয়ে বসলেন না যেটা কিনা খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার। সন্ধ্যের দিকে উনাদের পারিবারিক ডাক্তার অনিন্দ্য এলেন। দেখে বললেন সব ঠিক আছে, তবে প্রেশারটা একটু বেশি আছে আর মনে হয় ঘুম খুব কম হচ্ছে। একটা হাল্কা ডোজের ঘুমের ওষুধ লিখে দিলেন। দরকার হলে অবশ্যই নিতে হবে। সন্ধ্যেবেলা চা জলখাবারের পরে গিন্নী নিচের তলায় রান্নাঘরে তদারকি করতে গেলে, সুপ্রকাশবাবু উঠে বারান্দায় এলেন। তিনি এতোক্ষণ এই সুযোগটারই অপেক্ষায় ছিলেন। কালকের রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তিনি কাউকে বলতে পারেন নি এমনকি ডাক্তারকেও না। রাতের সেই বিভীষিকা তিনি মনে মনে এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেন নি। আবার আরেকটা রাত আসছে, আজকেও যদি আবার আগের দিনের মতো ঘটনা ঘটে....! তবে? নাহ্ আর ভাবতে পারছেন না। ঘরে এসে তার সমস্ত লেখাগুলোকে নিলেন। যে যে গল্পের চরিত্ররা কাল রাতে এসেছিলো সেই গল্পগুলো তো নিলেনই, সাথে অন্যান্য সব লেখাও নিলেন। বারান্দায় এসে কুটি কুটি করে সব ছিঁড়ে দেশলাই জ্বেলে আগুন ধরিয়ে দিলেন। নাহ্ আর কোনো গল্পেরই অস্তিত্ব রাখার দরকার নেই। সেই দিনের পর থেকে তার বই লিখে লেখক হওয়ার স্বপ্ন যেনো চিরদিনের মতো একটা দুঃস্বপ্ন হয়েই থেকে গেলো। আর কখনো মনে হয় না ভবিষ্যতে কোনোদিন কোনোভাবে তিনি সুস্থ স্বাভাবিক মনে কোনো গল্প লেখার কথা ভাবতে পারবেন।





Others News

একটি সুন্দর গল্প - চুল

একটি সুন্দর গল্প - চুল


অনেক ক্ষণ ধরে পুরোনো ফোন নিয়ে ঘাঁটছিলাম। বিরক্ত হয়ে স্ত্রী বললেন - "এবার রাখো। তোমার মেয়ে খাবার নিয়ে তখন থেকে বসে আছে। খেতে চাইছে না। একটু দেখো।"

অগত্যা। গিয়ে দেখি একতাল আতপ চাল আর ঘি মাখানো ভাত নিয়ে সে বিরসবদনে বসে। খুব রাগ হল তার মা এবং আমার নিজের মায়ের প্রতি। সত্যি তো, এমন বিস্বাদ খাবার খেতে কেন যে জোর করে.. !

মাাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম- "মা রে, দুটো খা। অন্ততঃ আমার কথা ভেবে।" মন্ত্রের মত কাজ হল। টলটল চোখে সে বলল - "বাবা, খাচ্ছি। কিন্তু আমার একটি চাওয়া আছে তোমার কাছে। দেবে?"

কোন বাবা তার সন্তানকে না দিয়ে পারে! বললাম - "নিশ্চয় মা। কিন্তু কম্পিউটারের মত দামী কিছু চেয়ে বসিস না। এখনি অতটা সামর্থ্য তো নেই।"

মেয়ের চোখ থেকে এবার মুক্তোদানা ঝরে পড়ল। "আমি কি তোমায় বিব্রত করতে পারি?" - প্রশ্ন সে দৃষ্টিতে। আমি লজ্জিত হলাম।

খাওয়া শেষ করে সে বলল - "এবার বলি?"

তার ঠাকুমা, মা এবং আমার সপ্রশ্ন দৃষ্টি এখন তার দিকে। সে ধীরে ধীরে বলল - "আমি ন্যাড়া হতে চাই।"

ছুঁচ পড়লে শোনা যাবে এমন নীরবতা ভাঙ্গল আমার স্ত্রীর হুঙ্কারে - "মাথা খারাপ হয়েছে তোর। মেয়েরা কেউ ন্যাড়া হয়..!"
আমার মা রেগে গিয়ে বললেন - "যত্তোসব পাগলামি। আমাদের পরিবারে এমন অনাসৃষ্টি কেউ কখনও করে নি। এবার টিভি দেখে বিলেতের অন্ধানুকরণ।"

পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠছে দেখে সামলাতে চাইলাম - "মা রে, তোর ওমন গোছাভরা সুন্দর চুলগুলো কেটে ফেলবি? কিন্তু কেন?"

শান্ত কিন্তু প্রত্যয়ী কণ্ঠে মেয়ে বলল - বাবা, তুমি কিন্তু কথা দিয়েছিলে আমায়। তুমি নিজেই তো কতবার আমাকে সত্যবাদী হরিশচন্দ্রের ঘটনাটা বলেছ। শিখিয়েছ - সত্যবাদীতার জন্য জীবনপণ করা যায়। তাহলে এখন নিজের কথা রাখতে চাইছ না কেন?"

জয় হল তার। একমাথা রেশমী চুল মুড়িয়ে সন্ন্যসিনীর মত দেখতে হল তাকে। আমার কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছিল। তার ঠাকুমা, মা তো কথা বলাই ছেড়ে দিল আমার সঙ্গে মেয়ের এমন বিচিত্র আব্দারে তাল দেবার জন্যে।

প্রতিদিনকার মত তাকে স্কুলে ছাড়তে গেলাম। আমার আদরের ন্যাড়ামাথা স্কুলের গেটের দিকে এগোচ্ছে। ঠিক সেই সময় একটি গাড়ি থামল। শুনলাম - আমার কন্যের নাম ধরে কেউ ডাকছে - "সিধুজা।"

মেয়ে থমকাল। তার মুখে অনাবিল হাসি। দেথলাম গাড়ি থেকে নামলেন এক ভদ্রমহিলা আর ছোট্ট একটি ছেলে। তার মাথাটিও ন্যাড়া। আমি ভাবলাম - সিধুজা তবে একা নয়, এটাই নতুন ফ্যাশন!

অচীরেই আমার ভুল ভাঙ্গালেন ছেলেটির মা। বললেন - "বিরলতম অনুূভূতিপ্রবণ আপনার মেয়ে। গতসপ্তাহে আমাদের বাড়ি এসেছিল আমার ছেলেকে দেখতে। ওর কেমোথেরাপি চলছে। ফলে সব চুল ঝরে গেছে। স্কুলে গেলে পাছে বন্ধুরা পিছনে লাগে তাই আসতে রাজী হচ্ছিল না। তা শুনে আপনার মেয়ে সিধুজা তখনই বলেছিল - স্কুলে আসতে। মাথায় চুল না থাকার কারণে পিছনে কেউ লাগবে না। এখন বুঝলাম সমাধানটা। স্কুলের সেরা ছাত্রী নিজেই যদি মুণ্ডিতমস্তক হয়, আমার ছেলেকে কে আর রাগাবে..!!"

আমি নির্বাক। দেখলাম আমার সিধুজা, মহাপ্রাণ সিধুজা তার বন্ধুর হাতটি ধরে গেট পেরোল। মাথা থেকে তার পদপ্রান্তে এসে আমার দৃষ্টি ঝাপসা হল।