কাশ্মীরি কন্যা - তারিফ আলম

26th May 2020 12:42 pm তারিফ আলম
কাশ্মীরি কন্যা - তারিফ আলম


বি এড এর সার্টিফিকেট টা নিতে এসে খুব বিপদে পড়ে গিয়েছে রাহুল । আসলে তিন বছর আগে একটা মেদিনীপুরের স্টাডি সেন্টারে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বি এড করার জন্য টাকা জমা দিয়েছিল । কিন্তু পরে জানতে পারলো যে , অন্ধ্রপ্রদেশে কলেজ গুলোতে বি এড এর কোন সিট ফাঁকা নেই । তাই কাশ্মীর থেকে বি এড করতে হবে । কাশ্মীর নাম শুনলেই কেমন একটা ভয় ভয় লাগে রাহুলের । বাড়ীর লোকেও বারন করেছিল । কিন্তু এক বছরে বি এড করার সুযোগ এটাই শেষ । তাই সাহস নিয়ে কাশ্মীর ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল । সবার সাথে গিয়ে পরীক্ষাও দিয়ে এসেছিল । ফাস্ট ক্লাসে পাশও করেছে সে । কিন্তু অরিজিনাল সার্টিফিকেটটা আনা হয় নি । এদিকে আপার প্রাইমারির ইন্টারভিউতে প্রয়োজন । তাই বাধ্য হয়ে একাই চলে এসেছে সে কাশ্মীর । সব কিছু শান্ত ছিল । কিন্তু হটাত করে কেন্দ্র সরকার ৩৭০ ধারা বিলোপ এর ঘোষণার পর চারিদিকে কেমন একটা থমথমে ভাব । সব দোকান – পাট বন্ধ , কার্ফু জারি থাকায় রাস্তায় লোক নেই বললেই চলে । রাহুল অনেক কষ্টে বি এড কলেজের গেটের সামেন এসে দেখল গেট বন্ধ , বাইরে থেকে তালামারা । এদিকে রাতের পর থেকে আর কিছু খাওয়া হয় নি । বোতলে জলও শেষ । তেষ্টায় গলা শুকিয়ে গিয়েছে । এমন সময় দেখল একটা জলের নল আছে এক কোনে । রাহুল দ্রুত গিয়ে জলের নল এর মুখ ঘুরিয়ে দেখল নলে জল নেই । হতাশ হয়ে সেখনেই বসে পড়ল ।
“ এই জল পান করতে পারেন “ ?
রাহুল এক মহিলার গলার আওয়াজ শুনে মাথা তুলে দেখল একটা কালো বোরখা পরা মেয়ে তার দিকে একটা জলের বোতল বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে । রাহুল দ্রুত বোতলটা হাতে নিয়ে সব জলই পান করে নিল তেষ্টার কারনে ।
“ Thank you জল দেওয়ার জন্য “।
মেয়েটি কিছু না বলে খালি বোতলটা রাহুলের কাছ থেকে নিয়ে ব্যাগ এ ভরে নিল ।
রাহুল দেখল মেয়েটির মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা । শুধু চোখ গুলি দেখা যাচ্ছে , নীল রঙের , এত সুন্দর চোখ আগে কোনদিন দেখেনি রাহুল ।
রাহুল মেয়েটাকে বলল – “ বন্ধু একটু হেল্প করবেন ।আমার নাম রাহুল । আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি বি এড এর সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য । কিন্তু এখানে এসে দেখলাম কলেজ বন্ধ । সার্টিফিকেট পাওয়ার কি কোন উপায় আছে “?
মেয়টি এবারে তার মুখের উপর থেকে কাপড়টা সরিয়ে দিল । অপূর্ব সুন্দরী ,ফর্সা । বলিউডের নায়িকা আলেয়া ভাটও এর রুপের কাছে হার মানবে । রাহুল মহিত হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো তার দিকে ।
“ আমার নাম তাহেরা । আমার বাবা এই কলেজের অধ্যাপক । কিন্তু গতকাল কলেজে এসে আর বাড়ী ফিরেন নি । ফোন ও ইন্টারনেট ভারত সরকার বন্ধ করে দিয়েছে , ফলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি । তাই আমি আজ অনেক কষ্টে কলেজ এসেছি বাবাকে খুঁজতে । কিন্তু এখানে এসে জানতে পারলাম বাবাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে । কোথায় রেখেছে তা জানা যাচ্ছে না “।
কথা গুলি বলতে বলতে তাহেরা কাঁদতে লাগলো । রাহুল সান্ত্বনা দিয়ে বলল – ‘ কেঁদো না বন্ধু , ভগবান ঠিক তোমার বাবাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেবেন । তুমি বাড়ী ফিরে যাও “।
“ বাড়ী যাওয়া সম্ভব নয় এখন । ওদিকে আন্দোলনকারি কাশ্মীরিদের সাথে সেনা বাহিনীর খণ্ড যুদ্ধ চলছে । অনেকে মরেছে , আহত অনেকে । আমি যাওয়ার চেষ্টা করে ফিরে এসেছি । সেনাবাহিনীর লোকেরা আমাকে ঐ এলাকায় যেতে বারন করলো “।
“ তোমার বাড়ীতে কে কে আছে বন্ধু “?
“বাড়ীতে আর কেউ নেই । মা ২০১৫ সালে মারা গিয়েছেন । আমি আর বাবা থাকতাম “।
“অহ । আচ্ছা তুমি এত সুন্দর বাংলা ভাষা জানলে কি করে “?
‘ আমার মা ছিলেন বাংলাদেশি মহিলা , মায়ের কাছ থেকেই বাংলা শিখেছি “।
“ খুব ভালো , কিন্তু এখন তুমি কোথায় যাবে ? আমি তো এখন স্টেশনে যাবো ট্রেন ধরে বাড়ী ফিরার জন্য । এই পরিস্থিতিতে এখানে থাকা কিছুতেই সম্ভব হবে না “।
তাহেরা আবার মুখে হাত দিয়ে কাঁদতে লেগে পড়ল ।
রাহুল কি করবে ভেবে পেল না । এদিকে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসছে । ঠাণ্ডা লাগছে খুব ।
রাহুল তাহেরার হাত ধরে বলল ‘ বন্ধু এখানে থাকলে বিপদ হতে পারে , চল আমার সাথে স্টেশনে । সেখানে বসে আলোচনা করে কোন একটা পথ বের করা যাবে “।
তাহেরা চোখ তুলে তাকাল রাহুলের দিকে । তারপর চলা শুরু করলো তার সাথে । অনেকটা পথ জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গল্প করতে করতে হাটতে লাগলো । এটাই স্টেশনে যাওয়ার শটকাট রাস্তা ।
হটাত একটা জীপগাড়ি সামনে এসে দাঁড়ালো । কয়েকজন বন্দুকধারী লোক গাড়ি থেকে নেমে এল । সবারই বড় বড় মুখ ভর্তি দাড়ি ।
তাদের মধ্যে একজন বন্দুক রাহুলের দিকে তাক করে উর্দুতে জিজ্ঞাসা করলো – তারা কারা এবং কোথায় যাচ্ছে ?
রাহুল ভয় পেয়ে গেল । উর্দু কথা জানে না । হিন্দি টা একটু সিনেমা দেখে শিখেছিল । কি বলবে বুঝে পেল না ।
এমন সময় তাহেরা রাহুলের হাত ধরে পাশে টেনে নিয়ে উর্দুতে বলল – “ এ আমার স্বামী , আমরা স্টেশনে যাচ্ছি । আবার আব্বা বি এড কলেজের অধ্যাপক নুরুল হাসান । তিনি দিল্লী গিয়েছিলেন । ট্রেনে ফিরছেন । তাঁকে আমরা স্টেশন আনতে যাচ্ছি “।
তাহেরার কথা শুনে তাদের মধ্যে একজন বলল সে তার বাবাকে চেনে । এই বলে তারা জিপে গিয়ে উঠে পড়ে চলে গেল ।
তারা চলে যেতেই রাহুল প্রান ভরে নিঃশ্বাস নিল কয়েকবার ।
তাহেরা রাহুলের হাত ধরে টান দিয়ে বলল – “ তাড়াতাড়ি এখানে থেকে পালিয়ে চল , আবার কেউ চলে আসতে পারে “।
রাহুল আর তাহেরা এবারে ছুটতে লাগলো । কিছুক্ষন ছুটার পর তাহেরা একটা স্থানে এসে ঘাসের উপরে শুয়ে পড়ে জোরে জোরে শ্বাস – প্রশ্বাস নিতে লাগলো । রাহুলও হাঁপিয়ে গিয়েছিল ছুটতে ছুটতে । সেও বসে পড়ল তাহেরার পাশে ।
চাঁদের আলো তাহেরার চোখের উপরে পড়েছে । মুখে শীতেও এত দৌড়ানর ফলে দু ফোঁটা ঘামের বিন্দু । চাঁদের আলো পড়ে এমন ভাবে চিকচিক করছে মনে হচ্ছে যেন শীতের সকালে ঘাসের উপরে কোন শিশির বিন্দু । রাহুল অবাক হয়ে দেখছিল তাহেরাকে । কালো বোরখাটা দৌড়ানর আগেই খুলে ফেলেছিল সে । নীল রঙের শালোয়ারে অপূর্ব সুন্দর লাগছে তাকে । মনে হচ্ছে যেন তার পাশে কোন স্বর্গের পরী শুয়ে আছে ।
তাহেরা রাহুলের দিকে তাকিয়ে দেখে একটু মুচকি হেসে উঠে বসল । তারপর সামনের দিকে আঙ্গুল দেখাল ।
রাহুল তার আঙ্গুল অনুসরন করে সামনের দিকে চেয়ে দেখল স্টেশন । তারা একদম স্টেশন এর কাছে পৌঁছে গিয়েছে ।
দুজনে উঠে পড়ে হাটতে হাটতে স্টেশনে এসে পোঁছাল । স্টেশনে অনেক ভিড় ছিল । সকলে প্রায় ঘরে ফিরছে যারা এখানে ছিল অন্য রাজ্যের মানুষ । সবার মধ্যেই একটা ভয় লক্ষ্য করছিল রাহুল । যুদ্ধ লাগার সম্ভাবনা প্রবল । অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোল তো শুরু হয়ে গিয়েছে ।
রাহুল তাহেরাকে নিয়ে একটা সিটে গিয়ে বসলো । রাহুল উঠে গিয়ে খাওয়ার দোকান থেকে রুটি আর ডিম নিয়ে আসলো । দুজনেরই খুব খিদে পেয়েছিল । সকাল থেকে কিছুই খাওয়া হয় নি ।
তাহেরা যখন খাবার গুলো খাচ্ছিল তখন চেয়ে ছিল রাহুল তার দিকে । তাহেরা মুখ তুলে রাহুল কে জিজ্ঞসা করলো সে কি দেখছে ?
রাহুল লজ্জা পেয়ে মাথা নেড়ে জানালো – কিছু না ।
তারপর দুজনে খাওয়া শেষ করে বসে চিন্তা করতে লাগলো কি করবে এখন ।
রাহুল বলল – ‘ আমার ট্রেন একটু পরেই আসবে । আমি বাড়ী ফিরে যাবো । তুমি কোথায় যাবে তাহেরা ?”
তাহেরা প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে বসে রইল । সেও বুঝতে পারছে না এই অশান্ত পরিস্থিতিতে সে কি করবে । বসে বসে কাঁদতে লাগলো ।
রাহুল নিজের হাত দিয়ে তাহেরার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল – “ তুমি যদি আমাকে বন্ধু মনে কর তো আমার সাথে আমার বাড়ী যেতে পারো । শান্তি ফিরলে কাশ্মীরে আমি আবার এসে তোমাকে ছেড়ে যাবো “।
তাহেরা কান্না বন্ধ করে একবার রাহুল এর দিকে চেয়ে দেখল । তারপর আবার চোখে হাত দিয়ে কাঁদতে লাগলো ।
রাহুল আর কিছু বলল না । কিছুক্ষন পরেই ট্রেন চলে এল । রাহুল নিজের লাল রুমাল টা দিয়ে তাহেরার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল – “ তুমি তো আমার সাথে যাবে না । তাই এই রুমাল টা রাখো । আর আমার ফোন নাম্বার টা । সকালে তোমার বাবার খোঁজ করো । রাতে স্টেশন থেকে বেরিয়ো না ভুলেও । অনেক বাজে লোক আছে “।
তাহেরা কান্না বন্ধ করে দেখল রাহুলের দিকে ।
রাহুল নিজের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে উঠে পড়লো ট্রেন এ । ট্রেন ছেড়ে দিল । রাহুল আর তাহেরা এক দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকলো । রাহুল হাত নেড়ে বিদায় জানালো । তাহেরাও হাত নাড়ছিল ।
হটাত কি হল তাহেরা ‘রাহুল’ বলে চিৎকার করে ছুটা শুরু করে দিল প্লাটফর্ম এর উপর দিয়ে । ট্রেনের গতি একটু বেড়েছে । ছুটে আসছিল তাহেরা । রাহুল হাত টা বাড়িয়ে দিল । তাহেরা রাহুলের হাত ধরে লাফ দিয়ে উঠে পড়লো ট্রেনে । আর তারপর ট্রেনে চলা শুরু করলো ঝড়ের গতিতে ।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?