সময় - একটি শিক্ষামূলক গল্প

19th May 2020 7:02 pm শিক্ষামূলক গল্প
সময় - একটি শিক্ষামূলক গল্প


এক ভিক্ষুক প্রতিদিন শহরে যেত
ভিক্ষা
করতে। একদিন ফলের দোকানে
বেদানা
দেখে তার খুব খেতে ইচ্ছে করল। সে
দোকানী কে দাম জিজ্ঞেস করে
জানতে পারল যে সেটা কেনা তার
সাধ্যের বাইরে। তবুও সে একটা
বেদানা
ভিক্ষা চাইল কিন্তু দোকানী তাকে
অপমান করে তাড়িয়ে দিল।
ভিক্ষুকের
খুব মন খারাপ হল সে মনস্থির করল
বেদানা খাবেই এই ভেবে সে
ভিক্ষার
টাকা দিয়ে একটা বেদানার চারা
কিনল। এবং তার কুঁড়েঘর এর পাশেই
চারাটি রোপন করল। সে প্রতিদিন
চারাটির যত্ন নিত। ধীরে ধীরে কয়েক
বছরেই চারাটি বড় হতে লাগল আর
ভিক্ষুক ও বৃদ্ধ হতে লাগল। তো
বৃদ্ধ যখন
মুমূর্ষু অবস্থায় বিছানায় শুয়ে
দিনকাটাত ঠিক সেই সময় গাছটিতে
বেদানা ধরল। ভিক্ষুক কুড়েঘরে
শুয়েই
দেখতে পেত তার গাছে চমৎকার
বেদানা ধরেছে কিন্তু গাছে উঠে
বেদানা খাবার শারিরীক অবস্থা
তার
ছিল না। এক রাতে ভিক্ষুক মারা
গেল।
তার মারা যাবার পর প্রতিবেশিরা
বেদানাগুলো পেড়ে খেয়ে ফেলল।
সারকথা : আমাদের মানে
মধ্যবিত্তদের ইচ্ছা/স্বপ্নগুলো
হল ওই
বেদানা গাছটির মত। যাকে আমরা
অনেক কষ্ট করে লালন করি কিন্তু
যখন
সেই স্বপ্নগুলো পুরন হয় তখন
হয়তো
আমরাই থাকি না অথবা ওই আনন্দ
উপভোগের অবস্থায় থাকিনা। দেখা
যায় অনেক বাবা মা সন্তানের
সফলতার স্বপ্ন বোনেন কিন্তু
সন্তান
যখন সাফল্যের শিখরে থাকে বাবা মা
তা দেখে যেতে পারেন না।
এছাড়াও
আমরা নানা সংকটময় সময়ে ভাবি
কষ্ট
এক সময় থাকবে না সুসময় আসবে।
আসেও
তবে অনেক কিছু হারিয়ে তার পরে।
তখন সেই সুখ আর উপভোগ্য
থাকেনা।
আমরা কেবল স্বপ্ন বুনতেই জানি
পুরনের
আনন্দটা অনেক ক্ষেত্রেই
উপভোগ করে
অন্য কেউ।...........

 





Others News

অন্ধ ঘোড়া

অন্ধ ঘোড়া


এক লোকের দুটি ঘোড়া ছিল। দূর থেকে দেখতে ঘোড়া দুটিকে প্রায় একই রকম লাগতো।

কিন্তু কেউ যদি ভাল মত দেখে তাহলে বুঝবে যে দুটি ঘোড়ার মধ্যে একটি ছিলো অন্ধ।

তাদের মালিক অনেক ভালো ছিলো। তাই সে অন্ধ ঘোড়াটিকেও অন্য ঘোড়াটির মতই যত্ন করতো। আস্তাবলে দুটি ঘোড়ার জন্যই আরামদায়ক শোয়ার যায়গার ব্যবস্থা করেছিলো সে। সকাল বেলা দুটি ঘোড়াই সামনের মাঠে ঘাস খেতে চলে যেত।

ঘোড়াদুটি যখন মাঠে ঘুরে বেড়ায় তখন কেউ যদি কান পেতে রাখে তবে সে একটা মৃদু ঘন্টার শব্দ শুনতে পাবে। এই ছোট্ট ঘন্টাটি সুস্থ ঘোড়ার গলায় বাধা ছিলো। ঘন্টার শব্দ অন্ধ ঘোড়াটিকে বুঝতে সাহায্য করতো যে তার সঙ্গী কোথায় রয়েছে।

কেউ যদি মাঠের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সে দেখতে পাবে যে সুস্থ ঘোড়াটি সব সময় অন্ধ ঘোড়াটিকে চোখে চোখে রাখছে যাতে সে হারিয়ে না যায়, অন্ধ ঘোড়াটিও মাঝে মাঝে কান খাড়া করে ঘন্টার শব্দ শুনছে এবং ধীরে ধীরে অপর ঘোড়াটির কাছে হেঁটে যাচ্ছে। তার মনে সবসময় এই বিশ্বাস যে তার বন্ধু তাকে কখনো ভুল পথে নিয়ে যাবে না।

সন্ধ্যায় যখন ঘন্টা বাধা ঘোড়াটি যখন বাড়িতে ফিরে আসতে থাকে তখন সে বার বার পেছনে ঘুরে তাকায়, এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে, সে যেন খুব দূরে চলে না যায় যাতে অন্ধ ঘোড়াটি ঘন্টার শব্দ শুনতে না পারে। এভাবে তারা নিরাপদে বাড়িতে ফিরে আসে।

****ঠিক এই অন্ধ ঘোড়াটির মত যদি আমরা নিখুত না হই অথবা আমদের কোন শারিরীক বা মানসিক সমস্যা থাকে তাহলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের কখনোই একা ছেড়ে দেন না।

তিনি আমাদের উপর সবসময় নজর রাখেন এবং আমাদের জীবনে এমন কাউকে পাঠান যাদের সাহায্যের আমাদের প্রয়োজন হয়।

কখনো আমরা সেই অন্ধ ঘোড়াটির মত, যার জীবনে সৃষ্টিকর্তা আরেকজনকে পাঠিয়ে দেন সাহায্যের জন্য। আবার কখনো আমরাই সেই ঘন্টাওয়ালা ঘোড়াটি, যে অন্য কাউকে পথ খুজে পেতে সাহায্য করে।