অদৃশ্য জীবাণু - সুশান্ত ঘোষ

28th April 2020 ছোটগল্প
 অদৃশ্য জীবাণু  - সুশান্ত ঘোষ


ছোটগল্প প্রতিযোগিতা - ১০

 à¦…দৃশ্য জীবাণু
লেখা- সুশান্ত ঘোষ

সকালে খেতে গিয়ে দেখলাম প্রেসারের ওষুধটা শেষ হয়ে গিয়েছে । ফলে বাধ্য হয়েই সকাল ১১টা নাগাদ বৈশাখের এই বিভৎস দাবদাহের মধ্যেই ওষুধ আনতে বেরিয়ে পড়লাম বাড়িতে বলে । আজকের রাস্তাটা কেমন যেন ফাঁকা লাগছে । বাড়ি থেকে বেরিয়ে কালেক্টরেটের কাছে হঠাৎ পা'টা একটু জড়িয়ে পড়লাম রাস্তার ওপর । গোড়ালির ভীষণ যন্ত্রণায় রাস্তার ওপরেই বসে রইলাম বেশ কিছুক্ষণ । কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম পাশের দোকানের মানুষগুলো কেমন ড্যাবড্যাব করে দেখছে আমাকে । কেউ এগিয়ে এসে রাস্তার থেকে তোলার মানবিকতাও দেখাচ্ছে না । খুব কষ্ট হচ্ছিল নিজের । সারাটা জীবন মানুষের যে কোন প্রয়োজনে কতো চেনা অচেনা সমাজের মানুষের মাঝে থেকেছি । জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকের সাহচর্যও পেয়েছি । কিন্তু আজ ? ওই দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো কেমন যেন আবছা ধোঁয়ায় আচ্ছ্বন্ন । আমি যেন চিৎকার করে ডাকতে গিয়েও গলা শুকিয়ে আসছে । কি অদ্ভুত ওরা কেন কেউ এগিয়ে এসে আমাকে উঠতে সাহায্য করছে না । আমি চিৎকার করে কেন ওদের ডাকতেও পারছি না । একটা ভীষণ কষ্ট যেন আমার বুকের ভেতর পাহাড়ের মতো চেপে বসেছিল । হঠাৎ আমার ছেলের বৌ চা নিয়ে এসে হাজির । আমাকে জোরে ডেকে বললো, বাবা এবার ওঠো ,অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে । তুমি এখনও ঘুমিয়ে আছো দেখে চা নিয়ে এলাম । তাড়াতাড়ি উঠে বসলাম বিছানায় । এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম । মাথাটাও ভীষণ ধরে গিয়েছে । চা খেতে খেতে একটা প্রশ্ন যেন মাথায় ঘুরছে , কি অদ্ভুত স্বপ্ন আজ দেখলাম । লকডাউন কেটে যাওয়ার পর আজকের সমাজে মানবিকতা বেঁচে থাকবে তো, ওই অদৃশ্য জীবাণুটাকে হারিয়ে ? আমরা আবার এই সুন্দর শহরের মাঝে আত্মীয় পরিজন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ওই অনুজীবের পরাজয় ঘটিয়ে চিৎকার করে বলবো সবাই , আমরা পেরেছি সমস্ত মানুষের ঐক্যবদ্ধ শক্তি তার বিবেক কে সঙ্গী করে সমস্ত আবদ্ধতার বেড়াজাল মুক্ত হয়ে মুক্ত আকাশে র নিচে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেরিয়ে আসতে- ওই অদৃশ্য জীবাণু টাকে হারিয়ে ।





Others News

ফাঁদ --- রোজ বেগম

ফাঁদ --- রোজ বেগম


ফাঁদ

রোজ বেগম 

তাড়াতাড়ি ব্যাগ টা নিয়ে রুপালী বেরিয়ে পড়লো । আজ কে এক ফ্রেন্ড এর বাড়ীতে নেমন্তন্ন । বেস্ট ফ্রেন্ড রুমার বিয়ে তে যেতে পারি নি কিন্তু আজ বউ ভাতে সঠিক সময়ে না পৌঁছালে খুব রাগ করবে সে । ফোন করে কি বকান না বকেছে না যাওয়ার জন্য । খুব অভিমানি মেয়ে । খুব দুঃখও পেয়েছে বোধহয় ।

হাই হোক , ব্যাগ টা আর একবার খুলে পরীক্ষা করে নিল , বান্ধবীকে দেওয়ার জন্য একটা সোনার কানের দুল বানিয়ে রেখেছিল আগে থেকেই । স্কুলে প্যারা টিচার এর কাজ করে রুপালী । স্কুলের শিক্ষিকাদের থেকে বেশি পরিশ্রম করলেও বেতন পায় অনেক কম । তাও আবার সময় মতো পায় না । তাই আগে থেকে জমানো টাকা থেকে বান্ধবীর জন্য সোনার কানের দুল টা কিনে রেখেছিল । ঠিক ঠাক রাখা আছে দেখে নিয়ে দ্রুত হাঁটা দিল ।

বাস স্ট্যান্ডে এসে একটা ফাঁকা বাস পেয়ে জানলার পাশে সিট ধরে বসে পড়লো । আজ রবিবার থাকার জন্য বাসে ভিড় টা কম ।

বাস টা à§§ ঘণ্টা লাগাল খড়গপুর এর কৌশল্যা মোড় আসতে । বাস থেকে নেমে উত্তর দিকের রাস্তা ধরে ১০ মিনিট হেঁটে গেলেই নাকি মধুর মিলন লজ । ওখানেই খাওয়া – দাওয়া হবে । বান্ধবীর দেওয়া পথ নির্দেশ মতো রুপালী উত্তর দিকের পথ ধরে হাঁটা দিল । দুপুর বেলা পথে লোক নাই বললেই চলে । ফাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলল । চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নিল রুপালী কোন অটো বা রিস্কা আছে কিনা । কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না । অগ্যতা একাই এগিয়ে চলতে লাগলো ।

কিছুক্ষন চলার পর রুপালী দেখতে পেলে একটা সুন্দর ছোটো বাচ্ছা , আনুমানিক বয়স ৪ কি ৫ বছর হবে । গায়ে কোন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ড্রেস । দেখে মনে হল কোন ভালো বাড়ীর বাচ্চা । সেই বাচ্চা টা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কাঁদছে । রুপালী পাশে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো , কাঁদছ কেন ?

বাচ্চা টা কোণো উত্তর না দিয়ে শুধু মা মা বলে আবার কাঁদতে লাগলো ।

রুপালী চারিদিকে একবার চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিল ভালকরে , বাচ্চাটার বাবা মা বা অন্য কেউ আছে কিনা । কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না ।

রুপালী বাচ্চাটাকে তার বাড়ী কোথায় জিজ্ঞাসা করলে সে আঙ্গুল দিয়ে একটা গলির দিকে দেখিয়ে দিল ।

রুপালীর ঐ ছোট বাচ্চা ছেলেটাকে পথে এ ভাবে ফেলে চলে যেতে মন চাইল না । সে বাচ্চাটাকে সঙ্গে নিয়ে বাচ্চাটার দেখানো গলি পথ ধরে তাকে তার বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে আসার জন্য এগিয়ে গেল । গলির মধ্যে কিছুটা যাওয়ার পরই হটাত দুটো লোক কোথা থেকে এসে ঘিরে ধরল রুপালিকে । তাদের হাতে ছুরি ছিল । রুপালী ভয়ে চিৎকার করে উঠতেই একটা লোক গলার কাছে ছুরি চেপে ধরে বলল যে , একদম চিৎকার করবেন না , যা টাকা পয়সা আর গহনা আছে তাড়াতাড়ি বের করুন ।

আর একজন রুপালীর হাত থেকে ব্যাগ টা ছিনিয়ে নিল । গলায় মায়ের দেওয়া সোনার হার টা ছিল । সেটা ধরে জোরে টান মারতে যাচ্ছিল , কিন্তু রুপালী নিজেই খুলে দিয়ে দিল । অন্য লোকটা বাচ্চাটাকে নিয়ে বাইকে উঠলো । রুপালী এখন বুঝতে পারলো বাচ্চাটা ওদেরই । এটা একটা ফাঁদ পাতা হয়েছিল । যাতে সে পা রেখে দিয়েছে ।

ছিনতাইবাজ দু জন রুপালীর কাছ থেকে ব্যাগ আর হার নিয়ে বাইকে চড়ে দ্রুত পালিয়ে গেল ।

রুপালী নিজের ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ করতে লাগলো । যাই হোক , গলি থেকে বেরিয়ে আর একটু হাঁটতেই মধুর মিলন লজ । সেখানেই বান্ধবীর বউভাত এর খাওয়া – দাওয়া চলছে । রুপালী বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল । তারপর পথে ঘটা সমস্ত ঘটনা জানালো । তার অন্য গিফট না আনতে পারার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল রুপালীর । কিন্তু রুমা রুপালিকে জড়িয়ে ধরে বলল , “তুই যে সুস্থ শরীরে ভালো ভাবে ফিরে এসেছিস --- এটাই আমার সব চেয়ে বড় গিফট । টাকার চেয়ে বন্ধুর জীবন অনেক বেশি মুল্যবান “।