চচ্চড়ি - রাজকুমার সরকার

28th April 2020 ছোটগল্প
চচ্চড়ি - রাজকুমার সরকার


ছোটগল্প প্রতিযোগিতা - ০৯

গল্প - চচ্চড়ি
লেখা- রাজকুমার সরকার

বাঁধাকপি'র ডাঁটিগুলো দিয়ে বেশ ভালোই হয়েছিল, চচ্চড়ি'টি সাথে গাজর ছিল তাই জম্পেশ লাগছিল।
রমলা চচ্চড়ি একটু যত্ন করেই করে।শুভময় বেশ আয়েস করে চিবোচ্ছিলো আর সেইসময়ই মহেশপুরের জয়দেবের প্রবেশ.....
বাবু ঘরে আছেন?
চচ্চড়ি চিবোনোর মজাটাই বিগড়ে দিল- জয়দেব্যা
আর সময় পেলে না?
এখন হঠাৎ খাওয়ার সময়; কিছু বলছো?
বলছিলাম টহলের টাকাটা....
কত?
কুড়ি টাকা।
আগে তো ধান নিতে?
কবেই বন্ধ হয়ে গেছে।বাবা'র দিকে তাকিয়ে বললো; বাবুকে জিজ্ঞ্যেস করুন....?
হ্যাঁ বাবা কি বলছে জয়দেব'দা...?
বাবা বললেন- কুড়ি টাকা দিয়ে দাও যদি খুচরো আছে।
দিচ্ছি।
বলি শোন জয়দেব'দা, সত্যি করে বল দেখিনি ৩০ দিনের কার্ত্তিক মাসে তুমি কতদিন টহল দিয়েছো?
জয়দেব-প্রতিদিন। একদিনেও বাদ দিয়নি।শুভময় মিথ্যা কথা শুনলেই রেগে যায়। বললো আমি প্রতিদিন ভোরে উঠি।লেখালেখি করি তুমি আমাকে বুড়বক মনে করেছো.....?
না বাবু মাঝে কয়েকটা দিন ছেড়ে গেছিল....মনে পড়লো।
কুড়ি টাকা সহদেব'কে দিয়ে বললো...এই নাও....
জয়দেব পান চিবোতে চিবোতে চলে যায়।
শুভময় বলে পান চিবোতে চিবোতে চলে গেলে আর আমাকে চচ্চড়ি চিবোতে দিলে না......
কিছুক্ষন পর জয়দেব ফিরে এসে বলে- বাবু মাথাটি খারাপ করে দিলেন যে...
কেন?
নোটটা ফাটা।কোনো দোকানে চলছে না।পান চিবোতে চিবোতে সকলের টাকা সংগ্রহ করে ফিরছিলাম বাড়ি শুধু আপনার নোটটিই চলছে না।দেখুন আটা দিয়ে সাঁটা আছে।
শুভময় বলে ওটা তোমাকে জেনেশুনে দিইনি।চচ্চড়ি ভালো করে চিবোতে দাওনি কেমন করে তুমি পান চিবানোর আনন্দ পাবে হে.....?
জয়দেব, শুভময়ের কাছে নতুন কুড়িটাকার একটি নোট নিয়ে বললো- বাবু দন্ডবৎ।
শুভময় মুচকি হেসে বলে উঠলো আমি শিক্ষা পাই ও শিক্ষা দিই জয়দেব'দা।আজকের মত ক্ষমা করে দিও বলেই করজোড়ে ভোটপ্রার্থীর মত স্ট্যাচু হয়ে গেলেন শুভময়......





Others News

ফাঁদ --- রোজ বেগম

ফাঁদ --- রোজ বেগম


ফাঁদ

রোজ বেগম 

তাড়াতাড়ি ব্যাগ টা নিয়ে রুপালী বেরিয়ে পড়লো । আজ কে এক ফ্রেন্ড এর বাড়ীতে নেমন্তন্ন । বেস্ট ফ্রেন্ড রুমার বিয়ে তে যেতে পারি নি কিন্তু আজ বউ ভাতে সঠিক সময়ে না পৌঁছালে খুব রাগ করবে সে । ফোন করে কি বকান না বকেছে না যাওয়ার জন্য । খুব অভিমানি মেয়ে । খুব দুঃখও পেয়েছে বোধহয় ।

হাই হোক , ব্যাগ টা আর একবার খুলে পরীক্ষা করে নিল , বান্ধবীকে দেওয়ার জন্য একটা সোনার কানের দুল বানিয়ে রেখেছিল আগে থেকেই । স্কুলে প্যারা টিচার এর কাজ করে রুপালী । স্কুলের শিক্ষিকাদের থেকে বেশি পরিশ্রম করলেও বেতন পায় অনেক কম । তাও আবার সময় মতো পায় না । তাই আগে থেকে জমানো টাকা থেকে বান্ধবীর জন্য সোনার কানের দুল টা কিনে রেখেছিল । ঠিক ঠাক রাখা আছে দেখে নিয়ে দ্রুত হাঁটা দিল ।

বাস স্ট্যান্ডে এসে একটা ফাঁকা বাস পেয়ে জানলার পাশে সিট ধরে বসে পড়লো । আজ রবিবার থাকার জন্য বাসে ভিড় টা কম ।

বাস টা à§§ ঘণ্টা লাগাল খড়গপুর এর কৌশল্যা মোড় আসতে । বাস থেকে নেমে উত্তর দিকের রাস্তা ধরে ১০ মিনিট হেঁটে গেলেই নাকি মধুর মিলন লজ । ওখানেই খাওয়া – দাওয়া হবে । বান্ধবীর দেওয়া পথ নির্দেশ মতো রুপালী উত্তর দিকের পথ ধরে হাঁটা দিল । দুপুর বেলা পথে লোক নাই বললেই চলে । ফাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলল । চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নিল রুপালী কোন অটো বা রিস্কা আছে কিনা । কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না । অগ্যতা একাই এগিয়ে চলতে লাগলো ।

কিছুক্ষন চলার পর রুপালী দেখতে পেলে একটা সুন্দর ছোটো বাচ্ছা , আনুমানিক বয়স ৪ কি ৫ বছর হবে । গায়ে কোন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ড্রেস । দেখে মনে হল কোন ভালো বাড়ীর বাচ্চা । সেই বাচ্চা টা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কাঁদছে । রুপালী পাশে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো , কাঁদছ কেন ?

বাচ্চা টা কোণো উত্তর না দিয়ে শুধু মা মা বলে আবার কাঁদতে লাগলো ।

রুপালী চারিদিকে একবার চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিল ভালকরে , বাচ্চাটার বাবা মা বা অন্য কেউ আছে কিনা । কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না ।

রুপালী বাচ্চাটাকে তার বাড়ী কোথায় জিজ্ঞাসা করলে সে আঙ্গুল দিয়ে একটা গলির দিকে দেখিয়ে দিল ।

রুপালীর ঐ ছোট বাচ্চা ছেলেটাকে পথে এ ভাবে ফেলে চলে যেতে মন চাইল না । সে বাচ্চাটাকে সঙ্গে নিয়ে বাচ্চাটার দেখানো গলি পথ ধরে তাকে তার বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে আসার জন্য এগিয়ে গেল । গলির মধ্যে কিছুটা যাওয়ার পরই হটাত দুটো লোক কোথা থেকে এসে ঘিরে ধরল রুপালিকে । তাদের হাতে ছুরি ছিল । রুপালী ভয়ে চিৎকার করে উঠতেই একটা লোক গলার কাছে ছুরি চেপে ধরে বলল যে , একদম চিৎকার করবেন না , যা টাকা পয়সা আর গহনা আছে তাড়াতাড়ি বের করুন ।

আর একজন রুপালীর হাত থেকে ব্যাগ টা ছিনিয়ে নিল । গলায় মায়ের দেওয়া সোনার হার টা ছিল । সেটা ধরে জোরে টান মারতে যাচ্ছিল , কিন্তু রুপালী নিজেই খুলে দিয়ে দিল । অন্য লোকটা বাচ্চাটাকে নিয়ে বাইকে উঠলো । রুপালী এখন বুঝতে পারলো বাচ্চাটা ওদেরই । এটা একটা ফাঁদ পাতা হয়েছিল । যাতে সে পা রেখে দিয়েছে ।

ছিনতাইবাজ দু জন রুপালীর কাছ থেকে ব্যাগ আর হার নিয়ে বাইকে চড়ে দ্রুত পালিয়ে গেল ।

রুপালী নিজের ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ করতে লাগলো । যাই হোক , গলি থেকে বেরিয়ে আর একটু হাঁটতেই মধুর মিলন লজ । সেখানেই বান্ধবীর বউভাত এর খাওয়া – দাওয়া চলছে । রুপালী বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল । তারপর পথে ঘটা সমস্ত ঘটনা জানালো । তার অন্য গিফট না আনতে পারার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল রুপালীর । কিন্তু রুমা রুপালিকে জড়িয়ে ধরে বলল , “তুই যে সুস্থ শরীরে ভালো ভাবে ফিরে এসেছিস --- এটাই আমার সব চেয়ে বড় গিফট । টাকার চেয়ে বন্ধুর জীবন অনেক বেশি মুল্যবান “।