ভাত - কাবেরী ঘোরাই

26th April 2020 ছোটগল্প
ভাত - কাবেরী ঘোরাই


ছোটগল্প প্রতিযোগিতা - ০১

গল্প - ভাত

লেখা - কাবেরী ঘোরাই

বিলাস আর লছমির সংসার। বিহারের একটা গ্রামে বসবাস তাদের। সংসার যেন আর চলেনা। বিলাস টুকটাক কাজ করে।লছমিও তাই তবু বড় অভাব। লছমি আবার মা হতে চলেছে। হঠাত বিলাস কাজ পায়, একটু দুরে ইটভাটার ঠিকাদারের ওখানে। বিলাস কাজ করে মন দিয়ে; ঠিকাদার সাহেব খুব ভালোবাসে তাকে। তার ছেলের বয়সী বিলাস। ঠিকাদার সাহেব এর ছেলের বিয়ে হয়েছে বিলাস কাজে ঢোকার পরেই। খুব খাইয়েছিল ঠিকাদার সাহেব লছমি সব সময় বলে; সে ঐ গন্ধ চালের ভাত খেতে খুব ভালোবাসে। কিন্তু বিলাসের ওতো ক্ষমতা কোথায়-!
দিন যায় একটা একটা করে ; বিলাস বোঝে ঠিকাদারের ছেলের বৌ এর বাচ্চা কাচ্চা হওয়া নিয়ে কিছু অসুবিধে আছে। কিন্তু সে চাকর বাকর মানুষ তার কি ই বা বলার আছে, নতুন বৌ টা মুখ শুকনো করে ঘোরে বাড়িময় বিলাস দেখেছে। হঠাত এক দুপুরে ঠিকাদার সাহেব বিলাস কে ডেকে পাঠায় তার ঘরে বিলাস যায়; ঠিকাদার সাহেব বসে আছে মোটা গদির ওপরে। সামনে বড় একটা সিন্দুক। বিলাস বলে , সেলাম হুজুর আপ নে বুলায়া মুঝে? ঠিকাদার বলে, দরওজা বন্ধ করো । বিলাস অবাক হয়ে যায় কি এমন কথা ! যা দরজা বন্ধ করে বলতে হবে!! সে তাই করে। ঠিকাদার বলে , ইধার আও বিলাস বৈঠো ইঁহা। বিলাস লজ্জা পায় বলে নেহি সাব ঠিক হ্যায় বলিয়ে না আপ যো বোলনা চাতে হ্যায়, ঠিকাদার বলে, বিলাস মেরা বেটা কা সাদী হুয়া ইয়ে তো তুম জানতে হো লেকিন উস্কা কোয়ি বারিস নেহি হো পায়েগা কুছ মুস্কিলো কি বাজেসে। হামারে জমানে হোতা তো বহু কো ছোড় দেতে লেকিন আজকাল কে লড়কে ইয়ে সব নেহি করেঙ্গে। মুঝে এক বিন্তি হ্যায় তুমসে উস্কে বদলে তুম যো মাঙোগে মিলেগা। বিলাস কি বলবে ভেবে পায়না সে বলে, হুজুর আপ হামারে মাই বাপ হো যো চাহিয়ে বলিয়ে , ঠিকাদার বলে, তুমারি বিবি কো তো বাচ্চা হোগা মুঝে মালুম হ্যায় উ বাচ্চা তুম হামকো দেদো। ইস্কে বদলে তুমে দো বিঘা জমিন ওর পচাশহাজার রুপিয়া মিলেগা।বিলাস চুপ হতভম্ব সে। কি বলবে ভেবে পায়না । ঠিকাদার বোঝে সে বলে ঠিক হ্যায় তুম কাল বাতানা হামে শোচ কর।
বিলাস বাড়ি এসে মাত্র সেই ভেবে চলেছে। কি বলবে কি ভাবে বলবে সে লছমি কে? লছমি যে অনেক স্বপ্ন দেখছে বাচ্চা নিয়ে। অবশেষে বলে সে লছমি কে। লছমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকে বিলাসের দিকে। বিলাস বলে , দেখ লছমি আগর হাম ইয়ে কর দে তো কোয়ি মুসিবত কভি নেহি আয়েগি বাচ্চা তো দুসরা ভি আ সাকতে হ্যায়। আচ্ছিওয়ালি জিন্দেগি ভি তো চাহিয়ে উনে দেনে কে লিয়ে। লছমি রাজি হয়ে যায়।
পরের দিন বিলাস জানায় ঠিকাদার সাহেব কে। ঠিকাদার সাহেব বলে ; বহত আচ্ছা বেটা লেকিন তুম আব ইঁহা নেহি রহে সাকতে দুসরা গাঁও মে সব ইন্তেজাম করা হুয়া হ্যায় তুম বাচ্চে হোনে কে বাদ ওহি রহোগে বিবি কো লেকর। বিলাস বোঝে যে ঠিকাদার কখনো তার বাচ্চার ওপরে বিলাস যাতে কোনো জোর খাটাতে না পারে তাই এই ব্যাবস্থা।
বিলাস লছমি র নতুন সংসার নতুন গ্রামে নয় নয় করেও এক বছর হতে চলেছে। দরকার ছাড়া আর ওই গ্রামে যায়না বিলাস। সে এখন ঠিকাদারের কাছে কাজও করেনা । তার নিজের জমিতেই চাষবাস করে দিব্যো চলছে তার। তবু লছমি কদিন ধরে বায়না ধরেছে ঐ গ্রামে যাবার জন্য। তার সহেলির বিয়ে নাকি একবার দেখা করতে যাবে আর তখনই ঠিকাদার সাহেবের বাড়ি গিয়েও একবার ঘুরে আসবে আর ছেলেটাকে দেখে আসবে চুপিচুপি। যতই হোক মা তো । বুধবার সকাল সকাল রওনা হয় তারা। প্রথমে ঠিকাদারের বাড়ি হয়ে চলে যাবে লছমির সহেলির বাড়ি।
তারা ঠিকাদারের বাড়ি যখন পৌঁছোয় তখন দুপুর বারো টা বেজে গেছে। সারা বাড়ি লোকে লোকারন্য খাওয়া দাওয়া এলাহি কান্ড। বিলাস অবাক হয়ে যায়। ঠিকাদার সাহেব বসে আছে ঐ ওপরে। সব তদারকি করছে এমন সময় বসির চাচা র সাথে দেখা ! বলে ,বিলাস! আও বেটা আও পহেলে খালো ফির ঠিকাদার জী সে মিল লেনা। বিলাস দেরো খুব খিদে পেয়েছিলো। তারা বসে পড়ে খেতে লছমি হাতে ঠেলা মেরে দেখায় সেই ভাত টা আসছে! সত্যিই কেমন যেনো একটা গন্ধ আছে ভাত টায় চারিদিক সেই গন্ধে ভরপুর। বিলাস এর পাতায় পড়েনি এখনো সে দেখছে অন্য পাতায় পড়ছে ভাত ডাল বেগুনী তরকারী আরো কত কি ! ভাবতে ভাবতেই বিলাসের পাত ও ভর্তী হয়ে যায় । সে যখনই ভাত টা মেখে মুখে তুলতে যাবে পাশে বসা বসির চাচা বলে , কেয়া বলু দুখ কি বাত বেটা ঠিকাদার জী কা তো নসীব ই খারাব হ্যায় , ইতনে দিনো বাদ ঘর সামাল নে কে লিয়ে এক পোতা হুয়া উ ভী স্রেফ দো দিন কি ভুখার মে চলা গেয়া!! উস্কা হি তো আজ শ্রাদ্ধ হ্যায়। বিলাস এর হাতের গ্রাস হাতেই থেকে যায় ; সে আড় চোখে লছমির দিকে দেখে লছমি চকচকে চোখে তাকিয়ে আছে ভাতের দিকে ! ভাত আসছে তার পাতে-----!!!





Others News

ফাঁদ --- রোজ বেগম

ফাঁদ --- রোজ বেগম


ফাঁদ

রোজ বেগম 

তাড়াতাড়ি ব্যাগ টা নিয়ে রুপালী বেরিয়ে পড়লো । আজ কে এক ফ্রেন্ড এর বাড়ীতে নেমন্তন্ন । বেস্ট ফ্রেন্ড রুমার বিয়ে তে যেতে পারি নি কিন্তু আজ বউ ভাতে সঠিক সময়ে না পৌঁছালে খুব রাগ করবে সে । ফোন করে কি বকান না বকেছে না যাওয়ার জন্য । খুব অভিমানি মেয়ে । খুব দুঃখও পেয়েছে বোধহয় ।

হাই হোক , ব্যাগ টা আর একবার খুলে পরীক্ষা করে নিল , বান্ধবীকে দেওয়ার জন্য একটা সোনার কানের দুল বানিয়ে রেখেছিল আগে থেকেই । স্কুলে প্যারা টিচার এর কাজ করে রুপালী । স্কুলের শিক্ষিকাদের থেকে বেশি পরিশ্রম করলেও বেতন পায় অনেক কম । তাও আবার সময় মতো পায় না । তাই আগে থেকে জমানো টাকা থেকে বান্ধবীর জন্য সোনার কানের দুল টা কিনে রেখেছিল । ঠিক ঠাক রাখা আছে দেখে নিয়ে দ্রুত হাঁটা দিল ।

বাস স্ট্যান্ডে এসে একটা ফাঁকা বাস পেয়ে জানলার পাশে সিট ধরে বসে পড়লো । আজ রবিবার থাকার জন্য বাসে ভিড় টা কম ।

বাস টা à§§ ঘণ্টা লাগাল খড়গপুর এর কৌশল্যা মোড় আসতে । বাস থেকে নেমে উত্তর দিকের রাস্তা ধরে ১০ মিনিট হেঁটে গেলেই নাকি মধুর মিলন লজ । ওখানেই খাওয়া – দাওয়া হবে । বান্ধবীর দেওয়া পথ নির্দেশ মতো রুপালী উত্তর দিকের পথ ধরে হাঁটা দিল । দুপুর বেলা পথে লোক নাই বললেই চলে । ফাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলল । চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নিল রুপালী কোন অটো বা রিস্কা আছে কিনা । কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না । অগ্যতা একাই এগিয়ে চলতে লাগলো ।

কিছুক্ষন চলার পর রুপালী দেখতে পেলে একটা সুন্দর ছোটো বাচ্ছা , আনুমানিক বয়স ৪ কি ৫ বছর হবে । গায়ে কোন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ড্রেস । দেখে মনে হল কোন ভালো বাড়ীর বাচ্চা । সেই বাচ্চা টা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কাঁদছে । রুপালী পাশে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো , কাঁদছ কেন ?

বাচ্চা টা কোণো উত্তর না দিয়ে শুধু মা মা বলে আবার কাঁদতে লাগলো ।

রুপালী চারিদিকে একবার চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিল ভালকরে , বাচ্চাটার বাবা মা বা অন্য কেউ আছে কিনা । কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না ।

রুপালী বাচ্চাটাকে তার বাড়ী কোথায় জিজ্ঞাসা করলে সে আঙ্গুল দিয়ে একটা গলির দিকে দেখিয়ে দিল ।

রুপালীর ঐ ছোট বাচ্চা ছেলেটাকে পথে এ ভাবে ফেলে চলে যেতে মন চাইল না । সে বাচ্চাটাকে সঙ্গে নিয়ে বাচ্চাটার দেখানো গলি পথ ধরে তাকে তার বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে আসার জন্য এগিয়ে গেল । গলির মধ্যে কিছুটা যাওয়ার পরই হটাত দুটো লোক কোথা থেকে এসে ঘিরে ধরল রুপালিকে । তাদের হাতে ছুরি ছিল । রুপালী ভয়ে চিৎকার করে উঠতেই একটা লোক গলার কাছে ছুরি চেপে ধরে বলল যে , একদম চিৎকার করবেন না , যা টাকা পয়সা আর গহনা আছে তাড়াতাড়ি বের করুন ।

আর একজন রুপালীর হাত থেকে ব্যাগ টা ছিনিয়ে নিল । গলায় মায়ের দেওয়া সোনার হার টা ছিল । সেটা ধরে জোরে টান মারতে যাচ্ছিল , কিন্তু রুপালী নিজেই খুলে দিয়ে দিল । অন্য লোকটা বাচ্চাটাকে নিয়ে বাইকে উঠলো । রুপালী এখন বুঝতে পারলো বাচ্চাটা ওদেরই । এটা একটা ফাঁদ পাতা হয়েছিল । যাতে সে পা রেখে দিয়েছে ।

ছিনতাইবাজ দু জন রুপালীর কাছ থেকে ব্যাগ আর হার নিয়ে বাইকে চড়ে দ্রুত পালিয়ে গেল ।

রুপালী নিজের ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ করতে লাগলো । যাই হোক , গলি থেকে বেরিয়ে আর একটু হাঁটতেই মধুর মিলন লজ । সেখানেই বান্ধবীর বউভাত এর খাওয়া – দাওয়া চলছে । রুপালী বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল । তারপর পথে ঘটা সমস্ত ঘটনা জানালো । তার অন্য গিফট না আনতে পারার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল রুপালীর । কিন্তু রুমা রুপালিকে জড়িয়ে ধরে বলল , “তুই যে সুস্থ শরীরে ভালো ভাবে ফিরে এসেছিস --- এটাই আমার সব চেয়ে বড় গিফট । টাকার চেয়ে বন্ধুর জীবন অনেক বেশি মুল্যবান “।