একটি শিক্ষামূলক গল্প - লোভ

24th April 2020 শিক্ষামূলক গল্প
একটি শিক্ষামূলক গল্প - লোভ


লোভ

এক বাদশার একটি বাগান ছিল। বাগানটি ছিল অনেক বড় এবং বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট। বাদশাহ একজন লোককে ডাকলেন। তার হাতে একটি ঝুড়ি দিয়ে বললেন, আমার এই বাগানে যাও এবং ঝুড়ি বোঝাই করে নানা রকম ফলমুল নিয়ে আস। তুমি যদি ঝুঁড়ি ভরে ফল আনতে পার আমি তোমাকে পুরস্কৃত করব। কিন্তু শর্ত হল, বাগানের যে অংশ তুমি পার হবে সেখানে তুমি আর যেতে পারবে না।

লোকটি মনে করলো এটা তো কোন কঠিন কাজ নয়। সে এক দরজা দিয়ে বাগানে প্রবেশ করল। দেখল, গাছে গাছে ফল পেকে আছে। নানা জাতের সুন্দর সুন্দর ফল। কিন্তু এগুলো তার পছন্দ হল না।

সে বাগানের সামনের অংশে গেল। এখানকার ফলগুলো তার কিছুটা পছন্দ হল। কিন্তু সে ভাবল আচ্ছা থাক সামনের অংশে গিয়ে দেখি সেখানে হয়ত আরো উন্নত ফল পাব, সেখান থেকেই ফল নিয়ে ঝুঁড়ি ভরব। সে সামনে এসে পরের অংশে এসে অনেক উন্নত মানের ফল পেল।

এখানে এ সে তার মনে হল এখান থেকে কিছু ফল ছিড়ে নেই। কিন্তু পরক্ষণে ভাবতে লাগলো যে সবচেয়ে ভাল ফলই ঝুড়িতে নিবে। তাই সে সামনে এগিয়ে বাগানের সর্বশেষ অংশে প্রবেশ করল।

সে এখানে এসে দেখল ফলের কোন চিহ্ন ই নেই। অতএব সে আফসোস করতে লাগল আর বলতে লাগল, হায় আমি যদি বাগানে ঢুকেই ফল সংগ্রহ করতাম তাহলে আমার ঝুড়ি এখন খালি থাকত না। আমি এখন বাদশাকে কি করে মুখ দেখাব।


জীবনে যখন যা পাও তাই নিয়ে খুশী থাকতে চেষ্টা করা উচিত । অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার লোভে সব কিছু হারাতে হতে পারে ।





Others News

অন্ধ ঘোড়া

অন্ধ ঘোড়া


এক লোকের দুটি ঘোড়া ছিল। দূর থেকে দেখতে ঘোড়া দুটিকে প্রায় একই রকম লাগতো।

কিন্তু কেউ যদি ভাল মত দেখে তাহলে বুঝবে যে দুটি ঘোড়ার মধ্যে একটি ছিলো অন্ধ।

তাদের মালিক অনেক ভালো ছিলো। তাই সে অন্ধ ঘোড়াটিকেও অন্য ঘোড়াটির মতই যত্ন করতো। আস্তাবলে দুটি ঘোড়ার জন্যই আরামদায়ক শোয়ার যায়গার ব্যবস্থা করেছিলো সে। সকাল বেলা দুটি ঘোড়াই সামনের মাঠে ঘাস খেতে চলে যেত।

ঘোড়াদুটি যখন মাঠে ঘুরে বেড়ায় তখন কেউ যদি কান পেতে রাখে তবে সে একটা মৃদু ঘন্টার শব্দ শুনতে পাবে। এই ছোট্ট ঘন্টাটি সুস্থ ঘোড়ার গলায় বাধা ছিলো। ঘন্টার শব্দ অন্ধ ঘোড়াটিকে বুঝতে সাহায্য করতো যে তার সঙ্গী কোথায় রয়েছে।

কেউ যদি মাঠের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সে দেখতে পাবে যে সুস্থ ঘোড়াটি সব সময় অন্ধ ঘোড়াটিকে চোখে চোখে রাখছে যাতে সে হারিয়ে না যায়, অন্ধ ঘোড়াটিও মাঝে মাঝে কান খাড়া করে ঘন্টার শব্দ শুনছে এবং ধীরে ধীরে অপর ঘোড়াটির কাছে হেঁটে যাচ্ছে। তার মনে সবসময় এই বিশ্বাস যে তার বন্ধু তাকে কখনো ভুল পথে নিয়ে যাবে না।

সন্ধ্যায় যখন ঘন্টা বাধা ঘোড়াটি যখন বাড়িতে ফিরে আসতে থাকে তখন সে বার বার পেছনে ঘুরে তাকায়, এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে, সে যেন খুব দূরে চলে না যায় যাতে অন্ধ ঘোড়াটি ঘন্টার শব্দ শুনতে না পারে। এভাবে তারা নিরাপদে বাড়িতে ফিরে আসে।

****ঠিক এই অন্ধ ঘোড়াটির মত যদি আমরা নিখুত না হই অথবা আমদের কোন শারিরীক বা মানসিক সমস্যা থাকে তাহলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের কখনোই একা ছেড়ে দেন না।

তিনি আমাদের উপর সবসময় নজর রাখেন এবং আমাদের জীবনে এমন কাউকে পাঠান যাদের সাহায্যের আমাদের প্রয়োজন হয়।

কখনো আমরা সেই অন্ধ ঘোড়াটির মত, যার জীবনে সৃষ্টিকর্তা আরেকজনকে পাঠিয়ে দেন সাহায্যের জন্য। আবার কখনো আমরাই সেই ঘন্টাওয়ালা ঘোড়াটি, যে অন্য কাউকে পথ খুজে পেতে সাহায্য করে।